কুমারেশ রায়, মেদিনীপুর, ২৭ মার্চ: শুভেন্দু অধিকারী এবং শিশির অধিকারীকে গদ্দারের জ্যাঠা বললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আজ পশ্চিম মেদিনীপুরে বিভিন্ন সভায় তিনি শুভেন্দু এবং শিশির অধিকারীকে তীব্র আক্রমণ করেন, কখনো মীরজাফর, কখনো কখনো গদ্দার রবং কখনও গদ্দারের জ্যাঠা বলেন।
শনিবার পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার নারায়ণগড় বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী সূর্য অট্টর সমর্থনে বেলদা স্টেডিয়াম সংলগ্ন মাঠে ও পিংলা বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী অজিত মাইতির সমর্থনে পিংলার মুন্ডুমারী এলাকায় নির্বাচনী জনসভা করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সঙ্গে খড়গপুর বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী প্রদীপ সরকারের সমর্থনে খড়গপুর শহরের মালঞ্চ এলাকায় রোড শো করে মুখ্যমন্ত্রী।
বেলদার জনসভার মঞ্চ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শুভেন্দু এবং শিশির অধীকারীকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন।
তিনি বলেন, আমাদের দুই গদ্দার ছিল– বাবা আর ব্যাটা। বাবা আর ব্যাটা দুজনেই বিজেপিতে গিয়ে গদারের জ্যাঠা হয়েছে। ওরা বোঝে না টাকা যতটুকু দরকার ততটুকুই থাকা উচিত।ওর থেকে বেশি হয়ে গেলে যন্ত্রণার কারণ হয়ে যায়। টাকার পর টাকা করে মানুষকে ভয় দেখায়। আমি মনে করি, ভাগ্যিস পশ্চিম মেদিনীপুর ওর বাপ বেটার সঙ্গে নেই। তিনি আরও বলেন, ওদের সম্বন্ধে যতবলি তত আমার ঘৃণা হয়। কারণ ওরা যখন যা চেয়েছে সব দিয়েছি। আর এখন নির্বাচনের আগে আমাকে ছেড়ে পালিয়েছে। কারণ টাকাটা এখন পকেটে রাখতে হবে, অমিত শাহকে দিতে হবে। এভাবে শনিবার শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বিজেপিকেও কটাক্ষ করেন তিনি।
সেই সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, বিজেপির গুন্ডারা কি করতে পারে সেটা কাছ থেকে দেখতে চাই আমি। দুধ কলা দিয়ে গদ্দার পুষে ছিলাম। তাই ২৮ মার্চ শনিবার থেকে পয়লা এপ্রিল দ্বিতীয় পর্বের ভোটের দিন পর্যন্ত তিনি নন্দীগ্রামে থাকবেন বলে জানান। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরো বলেন, মা-বোনেরা হাত, খুন্তি হাতে নিয়ে থাকবেন।বিজেপির বহিরাগত গুন্ডারা বাড়িতে আসলে তাদের হাতা, খুন্তি দিয়ে শায়েস্তা করবেন। ভোট লুট করার চক্রান্ত করবে বিজেপির বহিরাগত গুন্ডারা। তাদের সেই চক্রান্ত ব্যর্থ করে বিধানসভা নির্বাচনে নিজেদের বুথ রক্ষা করতে হবে। তিনি দলীয় কর্মীদের সজাগ থাকার নির্দেশ দেন এবং বহিরাগত বিজেপির গুন্ডাদের বিরুদ্ধে নজর রাখার নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, ভোট গণতন্ত্রের উৎসব। মানুষ নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবে। কিন্তু বিজেপির গুন্ডারা বাংলায় এসে তা করতে দিচ্ছে না। বাংলার শান্তি বিঘ্নিত করার চেষ্টা করছে। সেই জন্য দলের কর্মী-সমর্থকদের তিনি শান্তভাবে কাজ করার নির্দেশ দেন।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনসভা কে কেন্দ্র করে মানুষের মধ্যে উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মতো। শনিবার দুটি জনসভায় ও একটি রোড শো তে প্রচুর মানুষের সমাগম হয়। যখন প্রথম পর্বের বিধানসভা নির্বাচন চলছে তখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যকে ঘিরে দলীয় কর্মীদের মধ্যে উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মতো।

