আমাদের ভারত, ৬ সেপ্টেম্বর: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিবারের সম্পত্তি বৃদ্ধি নিয়ে যে মামলা দায়ের হয়েছিল তার প্রথম শুনানি ছিল মঙ্গলবার। এই শুনানি শেষে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি প্রকাশ শ্রীবাস্তবের ডিভিশন বেঞ্চ নির্দেশ দেয় এই মামলার গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে চার সপ্তাহের মধ্যে সব পক্ষকে হলফনামা জমা দিতে হবে।
মামলাকারী আইনজীবী তথা বিজেপি নেতা তরুণ জ্যোতি তিওয়ারি এদিন সাওয়াল করার সময় আদালতে বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর ভাতৃবধূ কাজরি বন্দ্যোপাধ্যায় যিনি কলকাতা পৌরসভার কাউন্সিলর। তিনি ভোটের আগে নির্বাচন কমিশনে যে হলফনামা জমা দিয়েছেন তাতে তিনি তার পেশা হিসেবে উল্লেখ ছিল তিনি সমাজ কর্মী। কিন্তু একজন সমাজ কর্মীর কি করে এত সম্পত্তি হয়? এই এত আয়ের উৎস কি?
এর পাল্টায় রাজ্য সরকারের তরফে আদালতে বলা হয় এই মামলার কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাই স্বপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী আদালতে বলেন, অনেক বিজেপি নেতাদেরও সম্পত্তি বেড়েছে। তাদের ক্ষেত্রে কি হবে?
মুখ্যমন্ত্রীর পরিবারের সদস্যদের তরফে আর্জি জানানো হয়েছে, এই মামলা এখনোও প্রাথমিক স্তরে রয়েছে ফলে এখনই যেন কোনো এজেন্সিকে এই মামলার তদন্তভার না দেওয়া হয়।
শুনানি শেষে আদালত নির্দেশ দিয়েছে এই মামলা আদৌ গ্রহণযোগ্য কিনা সে ব্যাপারে সমস্ত পক্ষকে চার সপ্তাহের মধ্যে হলফনামা জমা দিতে হবে। সব পক্ষই বলবে এই মামলার আদৌ কোনো যৌক্তিকতা আছে কিনা। আগামী ২৮ নভেম্বর এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে।
হাইকোর্টে এই মামলা দায়েরের দিনেই মেয়ো রোডে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সভা মঞ্চে দাঁড়িয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছিলেন তাঁর সঙ্গে তাঁর পরিবারের কোনো যোগ নেই। তাদের সঙ্গে কেবল উৎসবে যোগ রয়েছে। পরের দিন নবান্নে সাংবাদিক সম্মেলনে মমতা জানিয়েছিলেন, তিনি প্রশাসনকে বলেছেন, যদি প্রমাণিত হয় তিনি কাউকে কিছু পাইয়ে দিয়েছেন বেআইনিভাবে, তাহলে সেটা যেন ঐ বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। তবে এখন অপেক্ষা আদালতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিবারের সদস্যদের সম্পত্তি বৃদ্ধির মামলা কোন পথে যায়।

