মুখ্যমন্ত্রী হিংসা উস্কে দিচ্ছেন! রাজ্যপালের কাছে হাওড়ায় সেনা মোতায়েনের দাবি জানাল বিজেপির প্রতিনিধি দল

আমাদের ভারত, ১১ জুন:
নবিকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের পর বৃহস্পতিবার থেকে অশান্ত হাওড়ার বিস্তৃত এলাকা। একের পর এক এলাকায় ভাঙ্গচুর, বোমাবাজি, আগুন লাগানোর ঘটনা ঘটেছে। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে ইন্টারনেট পরিষেবা। এই পরিস্থিতিতে ওই জেলায় শান্তি ফেরাতে রাজ্যপাল জগদীপ ধনকরের দ্বারস্থ হলেন রাজ্য বিজেপির নেতৃত্ব। সুকান্ত মজুমদার, অগ্নিমিত্রা পাল, শমীক ভট্টাচার্যরা হাওড়ায় সেনা মোতায়েনের দাবি জানালেন।

রাজভবন থেকে বেরিয়ে এসে সুকান্ত মজুমদার বলেন, সাংবিধানিক প্রধান হিসেবে রাজ্যপালের কাছে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের দাবি জানানো হয়েছে। তিনি যাতে মুখ্যমন্ত্রীকে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের কথা বলেন তা বলা হয়েছে। রাজ্যের সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকায় পরিস্থিতি যাতে হাতের বাইরে না যায় তার জন্য পদক্ষেপ করা দরকার।

এরপরই বিজেপির রাজ্য সভাপতি অভিযোগ করেন, “মুখ্যমন্ত্রী হিংসায় প্ররোচনা দিয়েছেন। যারা অবরোধ করল তাদের বিরুদ্ধে একটি বাক্য বলেননি মুখ্যমন্ত্রী। বরং বিজেপি অফিসে এইকাণ্ড ঘটানোর কথা বলেছেন। এরপর আমরা দেখলাম বিজেপির পার্টি অফিস জ্বালিয়ে দেওয়া হল। মুখ্যমন্ত্রী হিংসা উস্কে দিয়েছেন।” সুকান্ত মজুমদারের অভিযোগ, তাদের দলীয় অফিসে ভারত মাতা, নেতাজি, প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি এপিজে আবদুল কালাম এবং আম্বেদকরের ছবিতে আঘাত করা হয়েছে।

গন্ডগোলের কারণে হাওড়ার পুলিশ কমিশনার বদল করেছে রাজ্য স্বরাষ্ট্র দপ্তর। হাওড়া পুলিশ কমিশনার করা হয়েছে প্রবীণ ত্রিপাঠিকে। হাওড়া গ্রামীণ পুলিশ জেলার নয়া সুপার হয়েছেন স্বাতী ভাঙিলিয়া। এই প্রসঙ্গে রাজ্যের সরকারকে খোঁচা দেন সুকান্ত মজুমদার। তিনি বলেন, “রাজ্য সরকার অফিসারদের সরিয়ে দিয়ে গাফিলতি মেনে নিয়েছে। কেন পুলিশ কে চুপ থাকতে নির্দেশ দেওয়া হল? সরকার বাধ্য হয়েছে ইন্টারনেট বন্ধ করতে। পশ্চিমবঙ্গ বিপদের মধ্যে রয়েছে।”

শনিবার হাওড়া যাওয়ার পথে সুকান্ত মজুমদারকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এবিষয়ে রাজ্য সভাপতি জানান, পুলিশ তাঁকে আটকাতে যেভাবে উদ্যোগী হয়েছে, শুক্রবার সেই উদ্যোগ নিলে পরিস্থিতি এত খারাপ হত না। রাজ্য বিজেপি সভাপতি বলেছেন আগামী দিনে তিনি ফের হাওড়া যাবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *