পার্থ খাঁড়া, আমাদের ভারত, পশ্চিম মেদিনীপুর, ১৩ ফেব্রুয়ারি: মেদিনীপুর শহরের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাগৃহ ‘বিদ্যাসাগর স্মৃতি মন্দির’ (বিদ্যাসাগর হল)-এর সংস্কার ও আধুনিকীকরণের জন্য ৮০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দ্রুত সেই কাজ শুরু হবে বলে জানিয়েছেন মেদিনীপুরের বিধায়ক সুজয় হাজরা। স্বাভাবিকভাবেই উচ্ছ্বসিত মেদিনীপুরবাসী। তাঁরা মনে করিয়ে দেন, ১৯৩৯ খ্রিস্টাব্দের ১৬ ডিসেম্বর এই প্রেক্ষাগৃহের দ্বারোদঘাটন করেছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

বিদ্যাসাগর স্মৃতি মন্দিরের গর্বের ইতিহাস স্মরণ করিয়ে দিয়ে লেখক ও গবেষক অমিতকুমার সাহু, অরিন্দম ভৌমিক- এর তথ্য অনুযায়ী জানা গিয়েছে ‘১৯৩৯ খ্রিস্টাব্দের ১৫ ডিসেম্বর, শুক্রবার রাত ১০টা নাগাদ স্পেশাল ট্রেনে করে মেদিনীপুর স্টেশনে এসে পৌঁছেছিলেন রবীন্দ্রনাথ। পরদিন সকাল ১০টায় দ্বারোদঘাটন করেন স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ। তাঁর ব্যবহৃত চেয়ার ও টেবিল এখনও সংরক্ষিত আছে, বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদের মেদিনীপুর শাখার কক্ষটিতে।’ এমন একটি ঐতিহাসিক প্রেক্ষাগৃহের সংস্কারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী অর্থ বরাদ্দ করায় অমরা সত্যিই ধন্য।’
মেদিনীপুর শহরের সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব তথা শিক্ষক গোলাম মুর্তজা জানান ‘সুপ্রাচীন ও ঐতিহাসিক এই শহরে জেলা পরিষদের প্রদ্যোৎ স্মৃতি সদন ছাড়া আরো একটি আধুনিক ও শীততপ নিয়ন্ত্রিত প্রেক্ষাগৃহ নেই। প্রদ্যোৎ স্মৃতি সদনের ভাড়াও অনেকটাই বেশি। বিদ্যাসাগর হল সংস্কারের খুব প্রয়োজন ছিল। বিধায়কের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই।’

বিধায়ক সুজয় বলেন, ‘মেদিনীপুর শহরের বিদ্যাসাগর স্মৃতি মন্দিরের সংস্কার ও আধুনিকীকরণের জন্য ৮০ লক্ষ টাকা এবং মেদিনীপুর গ্রামীণের কঙ্কাবতী কমিউনিটি হল আধুনিকীকরণের জন্য ১০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এছাড়াও, শালবনির বাঘমারিতে ২০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে গড়ে উঠবে নতুন একটি এসএসটি কমিউনিটি হল।’

