জে মাহাতো, আমাদের ভারত, পশ্চিম মেদিনীপুর, ১১ ফেব্রুয়ারি: ঝাড়গ্রাম ও পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় বিজেপির পরিবর্তন যাত্রায় বৃহস্পতিবার জনপ্লাবন দেখা দেয়। দুটি ক্ষেত্রেই জেলা নেতৃত্বের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। ঝাড়গ্রাম জেলার গোপীবল্লভপুর এবং পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার কেশিয়াড়িতে এই উপলক্ষ্যে দুটি জনসভার আয়োজন করা হয়। রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় প্রথমে গোপীবল্লভপুরে পরিবর্তন যাত্রায় অংশ নেন এবং বক্তব্য রাখেন। তারপর কেশিয়াড়িতে জনসভায় যোগ দেন।
দুটি সভা থেকেই তিনি তৃণমূল সরকারের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, এ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বলে বেড়াচ্ছেন সব কাজ হয়ে গেছে। জঙ্গলমহল হাসছে, পাহাড় হাসছে, কিন্তু গত লোকসভা নির্বাচনে মানুষ বুঝিয়ে দিয়েছে পাহাড় এবং জঙ্গলমহল আদৌ হাসছে না। সর্বত্র বেকার ছেলে মেয়েরা হতাশায় ভুগছে। বেকারদের কর্মসংস্থানের কোনও ব্যবস্থা এই সরকার করতে পারেনি। শুধু মিথ্যা প্রতিশ্রুতি এবং ভাঁওতা দিয়ে দশ বছর রাজ্য শাসন করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাই বেড়িয়ে এসে এই সরকারকে সরানোর চ্যালেঞ্জ নিয়েছি। রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, রাজ্যসভার মন্ত্রী হিসেবে কাজ করতে চেয়েছি কিন্তু আমাদের কোনও কাজ করতে দেওয়া হয়নি। আমাদের কোনও কথাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি ফলে কাজও হয়নি। তাই এবার তার জবাব দিতে হবে। মুখ্যমন্ত্রীকে কটাক্ষ করে রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, মুখ্যমন্ত্রী বলে বেড়ান সমস্ত মানুষের জন্য পানীয় জলের ব্যবস্থা করা হয়েছে, কিন্তু কতজন মানুষ পানীয় জলের পরিষেবা পেয়েছেন তা সকলেই জানেন। এখনও অনেক জায়গায় খাবার জল নেই, কৃষকদের চাষের জন্য সেচের ব্যবস্থা নেই। এই সমস্ত সমাধান না করে শুধু কেন্দ্রের সঙ্গে ঝগড়া করে কৃষকদের কিষাণ নিধি প্রকল্পের টাকা থেকেও বঞ্চিত করেছে তৃণমূল সরকার। তাই প্রধানমন্ত্রী হলদিয়ায় বলেছেন, রাজ্যে বিজেপি সরকার প্রতিষ্ঠিত হলে কৃষকদের ঘরে ঘরে আঠারো হাজার টাকা পৌঁছে দেওয়া হবে। এই সরকার প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনাকে বাংলা আবাস যোজনা নাম দিয়ে নাম কিনতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। কিন্তু তবু সবার ঘর হয়নি। সবক্ষেত্রে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। এরকম একটা মিথ্যার উপর দাঁড়িয়ে থাকা সরকার থেকে বেড়িয়ে এসে হাত মিলিয়ে আছি দেশের কল্যাণে কাজ করা বৃহত্তম দল বিজেপির সঙ্গে।

এই রাজ্যের তৃণমূল সরকার কৃষক সম্মান নিধি এবং আয়ুষ্মান প্রকল্প না গ্রহণ করে রাজ্যবাসীকে চরম বঞ্চনা করেছে। স্বাস্থ্য সাথী কার্ড প্রসঙ্গে রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, এই কার্ডে চিকিৎসা হয় না এটা হল তৃণমূলের ভোট কার্ড। নার্সিংহোমে গেলে ফেরত পাঠিয়ে দেয়। দুয়ারে সরকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রী বলে থাকেন সব কাজ করে দিয়েছি। তাহলে এত বছর পর দুয়ার সরকার কেন? এর থেকে প্রমাণ হয় দশ বছরে তিনি সমস্যার সমাধান করতে পারেননি। তাই এখন দুয়ারে সরকারের নামে ভোটের জন্য মাঠে নেমে পড়েছেন। আসলে তিনি জেনে গেছেন, মানুষের সমর্থন তাদের সঙ্গে নেই। তাই যা ইচ্ছে বলে যাচ্ছেন। বলছেন পাঁচ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনা পয়সায় চিকিৎসা পাবে স্বাস্থ্য সাথী কার্ড থেকে। এজন্য দু’কোটি কার্ড বিলি করা হবে, কিন্তু মানুষ জানে পাঁচ লক্ষ টাকা করে দু’কোটি কার্ডের জন্য দশ লক্ষ কোটি টাকার প্রয়োজন। সেই টাকা কোথায় পাবে সরকার? রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, মুখ্যমন্ত্রী বলছেন বেকার ছেলেদের চাকরি দিয়েছি, কিন্তু সাড়ে পাঁচ লক্ষ কর্মপদ বিলুপ্ত করে চুক্তিভিত্তিক কাজ দেওয়া হয়েছে। এইভাবে বেকারদের হতাশা মেটানো যায় না। বিজেপি ক্ষমতায় এলে বেকারদের জন্য চাকরির ব্যবস্থা করবে এজন্যই বিজেপিতে এসে লড়াই চালাচ্ছি। রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় একশো দিনের কাজ প্রসঙ্গে বলেন, এ রাজ্যে তো কাজ বলে কিছু নেই। তাই বেশি বেশি করে মানুষ বাধ্য হয়ে একশ দিনের কাজে যোগ দিচ্ছেন। কারণ তাদের আর কোনও উপায় নেই। আর সেই পরিসংখ্যান দেখিয়ে রাজ্য একশো দিনের কাজে প্রথম হচ্ছে। আর তাতেই উল্লাস করছে তৃণমূল এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু পরিবারের বেকার ছেলে মেয়েরা চাকরি পেলে একশো দিনের কাজের কি কোনো প্রয়োজন আছে? গ্রামেগঞ্জে বিভিন্ন রকম ভাতা দিয়ে বলছেন দিয়েদিলাম, করে দিলাম, কিন্তু তিনি কার টাকা দিচ্ছেন? সমস্ত জনগণের টাকা। রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, তৃণমূল বিজেপির সভা সমিতি বিভিন্নভাবে আটকানোর চেষ্টা করছে। কখনো গুলি চালিয়ে থামাতে চাইছে বিজেপিকে, কিন্তু এভাবে বিজেপিকে আটকানো যাবে না। রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূলের ওয়াশিং মেশিন কটাক্ষ প্রসঙ্গে বলেন, তৃণমূলের মুখে এসব কথা মানায় না। দশ বছর মাওবাদী মামলায় জেল খাটা ছত্রধর মাহাতোকে কোন মেশিনে ঢুকিয়ে তৃণমূলের রাজ্য সম্পাদক করা হয়েছে কিংবা বিমল গুরুং কোন মেশিনে সাদা হয়েছে তার জবাব আগে দিক তৃণমূল নেত্রী।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিটি ক্ষেত্রে মিথ্যা কথা বলা এবং সব কাজ নিজের করতে চাওয়ার জন্য আজ যারা তৃণমূল গড়েছে তারা বেড়িয়ে আসতে শুরু করেছে। তারা সবাই বলছে বিজেপি সরকার গড়তে হবে। বাংলার মানুষেরও একটাই আওয়াজ প্রকৃত পরিবর্তনের সরকার দরকার। বাংলার মানুষ বিজেপি সরকার গড়ার জন্য মুখিয়ে রয়েছেন। সমবেত জনতার উদ্দেশ্যে রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, আপনারা ভরসা রাখুন বিজেপি ক্ষমতায় আসছে। এই সময় শাসক দল বিভিন্নভাবে ভয় দেখানোর চেষ্টা করবে, কিন্তু সবাই জানে শাসকদল তখনই ধমক চমক শুরু করে যখন তারা জানতে পারে যে তাদের দিন শেষ হতে চলেছে।

