সাথী দাস, পুরুলিয়া, ৩০ জুলাই: গোষ্ঠী দ্বন্দ্বের জেরে পুরুলিয়া পুরসভার বোর্ড অফ কাউন্সিলরদের বৈঠকই হল না। পুরসভার ইতিহাসে এই ধরনের অঘটন প্রথমবার ঘটল। নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে পুরুলিয়া পুরসভার কাজ কর্ম চলছে। এছাড়াও পুরপ্রধানের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ তুলে কার্যত সভা বয়কট করলেন শাসক দলের ১২ জন কাউন্সিলর। সভায় ছিলেন না উপ পুরপ্রধান। গরহাজির না থেকে স্রোতে গা ভাসিয়েছেন বিরোধী কাউন্সিলররা।

২৩ আসন বিশিষ্ট পুরুলিয়া পুরসভায় ১৭ জন কাউন্সিলর রয়েছেন। পুরপ্রধানের নাম শেষ মুহূর্তে পাল্টে ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নবেন্দু মাহালিকে করা হয়। তার পর থেকেই দলেরই অধিকাংশ কাউন্সিলরদের সঙ্গে দূরত্ব বাড়তে থাকে পুরপ্রধানের। দলের বিক্ষুব্ধ কাউন্সিলরদের অভিযোগ, পুরসভা কাজের সুবিধার জন্য কোনো পরামর্শ নেওয়া হয়নি তাঁদের থেকে। চেয়ারম্যান ইন কাউন্সিল গড়া হয়নি। চেয়ারম্যান নিজের ইচ্ছে মতো কাজ করছেন, পুর আইনকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে। বোর্ডের বৈঠক ডাকার ক্ষেত্রেও মানেননি কোনও নিয়ম। অভিযোগ করেন ২১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর রবি শঙ্কর দাস।

পুরসভার বোর্ড অফ কাউন্সিলারদের বৈঠক ডাকার নিয়ম হল কম পক্ষে তিন দিন আগে বিজ্ঞপ্তি জারি করতে হবে। জরুরি ভিত্তিতে একটি মাত্র এজেন্ডা থাকলে সেক্ষেত্রে এক দিন আগে জানানো প্রয়োজন। শনিবার ১০ টি বিষয় নিয়ে বৈঠক ডাকেন পুর প্রধান নবেন্দু মাহালি। সেখানেই নূন্যতম কাউন্সিলরদের উপস্থিতি না থাকায় কার্যত ভেস্তে যায় বৈঠক। বৈঠক ডাকার বিষয়টি দল জানে। এমনকি চেয়ারম্যান ইন কাউন্সিল গড়ার ব্যাপারেও দলের নির্দেশের অপেক্ষায় ঝুলে রয়েছে বলে পাশ কাটেন পুরপ্রধান। তিনি বলেন, “পুরসভার বৈঠকে যদি কাউন্সিলাররা না থাকেন তাহলে উন্নয়ন কিভাবে সম্ভব? তবে, কিছু কাউন্সিলররা এটা ঠিক করছেন না। ”
পুরসভার বৈঠক ডাকার বিষয়টি দলের এক্তিয়ার নয় বলে সাফ জানিয়ে দেন তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সভাপতি সৌমেন বেলথরিয়া। গোষ্ঠী দ্বন্দ্বের কারণে দল অস্বস্তিতে রয়েছে। এটা পরিষ্কার হয়ে যায় জেলা সভাপতির বক্তব্যে।

