আমাদের ভারত, ১৭ জানুয়ারি: বাংলা সফরে এসে মালদার সভা থেকে অনুপ্রবেশ ইস্যুতে সবচেয়ে বেশি সরব হন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তাঁর কথায়, বাংলার সামনে আজ সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ হলো অনুপ্রবেশ। এক্ষেত্রে তিনি বিশ্বের বিভিন্ন সমৃদ্ধশালী দেশের কথার উল্লেখ করে বলেন, সেখান থেকেও অনুপ্রবেশকারীদের দেশ ছাড়া করা হচ্ছে। একইসঙ্গে তিনি তৃণমূল কংগ্রেস সরকারকে নির্মম ও সংবেদনশীল সরকার বলে আক্রমণ শানিয়ে নয়া স্লোগানে রাজ্যে পরিবর্তনের ডাক দেন।
অনুপ্রবেশে ইস্যুতে মোদী বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন, বাংলার সামনে আজ অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ অনুপ্রবেশ। তিনি দাবি করেন, বিশ্বের বহু সমৃদ্ধ দেশ যেখানে অর্থের কোন অভাব নেই তারাও নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় অনুপ্রবেশকারীদের দেশ ছাড়া করছে। এ প্রসঙ্গে তিনি প্রশ্ন করেন, বাংলায় কি সেটা আদৌ সম্ভব? তৃণমূল কংগ্রেস থাকলে কি এটা সম্ভব?
মালদার জনসভা থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তৃণমূল কংগ্রেসকে অত্যন্ত অসংবেদনশীল, নির্মম সরকার বলে আক্রমণ শানান এবং বাংলায় পরিবর্তনের ডাক দেন। তিনি বলেন, বাংলায় এবার সুশাসনের সরকার গঠনের সময় এসেছে। মানুষকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে এবং সে সিদ্ধান্ত হবে ভোটের মাধ্যমেই।
ক্ষমতায় এলে, বাংলায় বিজেপির প্রধান লক্ষ্য হবে বাংলার প্রতিটি গরিব পরিবারে নিজস্ব পাকা বাড়ি, বিনামূল্যে রেশন ও কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুবিধা প্রদান।
তিনি অভিযোগ করেন, কেন্দ্রের পাঠানো টাকা ও বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা রাজ্য স্তরের দুর্নীতির কারণে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছায় না। কেন্দ্র সরকার যে টাকা গরিবদের জন্য পাঠায় তা তৃণমূল নেতারা লুট করে। ২০৪৭ সালের মধ্যে ভারতকে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করার যে লক্ষ্য নির্ধারিত করা হয়েছে তার সাথে বাংলার ভবিষ্যতকে যুক্ত করতে গেলে সুশাসনের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
একইসঙ্গে দলের কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করতে কেরল, ওড়িশা, ত্রিপুরা, অসম, বিহার ও মহারাষ্ট্রে বিজেপির নির্বাচনী সাফল্যের উদাহরণ দেন। তিনি বলেন, সেখানকার মানুষ উন্নয়ন ও সুশাসনের পক্ষে রায় দিয়েছে।
বাংলার মানুষের উদ্দেশ্যে পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়ে আজ নির্বাচনের সুর বেঁধে নয়া স্লোগান তৈরি করে দিয়ে গেলেন মোদী। তিনি বলেন, “পাল্টানো দরকার, তাই চাই বিজেপির সরকার।”
আজ মালদায় জনসভা করেন প্রধানমন্ত্রী। আর মালদা ও মুর্শিদাবাদ এলাকার অন্যতম বড় ইস্যু বন্যা ও নদী ভাঙ্গন। সেই ইস্যুকে তুলে ধরে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এলে দুর্নীতি বন্ধ হবে। বন্যা সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে। মালদায় আম কেন্দ্রীক অর্থনীতি চাঙ্গা করতে উন্নত পরিকাঠামো গড়ে তোলার আশ্বাস দেন তিনি।
বাংলায় আইন- শৃঙ্খলা, দুর্নীতি ও মহিলাদের ওপর হওয়া হিংসা নিয়েও সরব হন তিনি। তাঁর কথায়, স্কুল কলেজেও বাংলার মেয়েরা সুরক্ষিত নয়।
মতুয়া শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেওয়া নিয়ে আশ্বস্ত করেন তিনি। মোদী বলেন, মতুয়া শরণার্থীদের ভয় পাওয়ার দরকার নেই। ভারত সরকার তাদের নাগরিকত্ব দেওয়ার জন্য নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন এনেছে।
এদিনের বক্তব্যে বেলডাঙার প্রসঙ্গ শোনা যায় মোদীর মুখে। বেলডাঙায় খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন সাংবাদিকরা, এই নিয়েও বক্তব্য রাখেন তিনি। মোদী বলেন, কালকেই আমরা দেখেছি তৃণমূলের গুন্ডারা একজন মহিলা সাংবাদিকের সঙ্গে কতটা অশালীন ব্যবহার করেছে। তৃণমূলের জমানায় বাংলার স্কুল-কলেজ ও নারীরা সুরক্ষিত নয়। এখানে প্রশাসনের নির্মমতা এমন যে মেয়েদের কথা শোনা হয় না। কোর্টে যেতে হয়। এই জিনিসের পরিবর্তন দরকার। এ কাজ কে করবে? এই কাজ আপনাদের একটা ভোট করবে। আপনাদের একটা ভোট বাংলার পুরনো গৌরব ফেরাবে। আমি বলছি তৃণমূলের গুন্ডাবাজি আর বেশি দিন চলবে না। এরও শেষ হবে। গরিব মানুষকে ভয় দেখানো, ধমকানোর রাজনীতি শেষ হবে।

