সোমনাথ বরাট, আমাদের ভারত, বাঁকুড়া, ২ সেপ্টেম্বর: স্বামীকে এড়িয়ে দ্বিতীয় বার বিয়ে করার দায়ে অভিযুক্ত বিধায়ক চন্দনা বাউড়ি আজ বাঁকুড়া আদালতে আত্মসমৰ্পণ করতে হাজির হন। বাঁকুড়ার শালতোড়া বিধানসভা কেন্দ্ৰ থেকে বিজয়ী বিজেপির এই বিধায়কের বিরুদ্ধে দ্বীতীয় বার বিয়ে করা সহ’ একাধিক অভিযোগ ওঠে।
তিন সন্তানের জননী বিধায়ক চন্দনা বাউড়ি সম্প্ৰতি দলীয় সহকৰ্মী ও কাৰ্যকৰ্তা কৃষ্ণ কুন্ডুকে স্থানীয় এক কালী মন্দিরে বিয়ে করেন। শালতোড়া আসনে প্ৰাৰ্থী মনোনীত হওয়ায় পর নিৰ্বাচনী প্ৰচারে কৃষ্ণ কুন্ডুর নিজস্ব গাড়িটি ব্যবহার করেন চন্দনাদেবী। গাড়িটি কৃষ্ণ
কুন্ডুই চালাতেন। তারপর থেকেই তাদের ঘনিষ্টতা এবং প্ৰেম। চন্দনা দেবীকে বিয়ে করার পর তার স্ত্ৰী এবিষয়ে গঙ্গাজলঘাঁটি থানায় আভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে আজ তিনি বাঁকুড়া আদালতে আত্মসমর্পণ করতে আসেন। বাঁকুড়া সিজেএম আদালতের বিচারপতির কাছে আত্মসমৰ্পণের আবেদন পেশ করলে সরকারি আইনজীবী আপত্তি জানিয়ে বলেন,
যেহেতু চন্দনা বাউড়ি নিৰ্বাচিত বিধায়ক সেহেতু বিষয়টি বারাসত আদালতের বিচারাধীন। তারপরই চন্দনা দেবীর আইনজীবী আবেদন প্ৰত্যহার করে নেন।
এ বিষয়ে চন্দনা দেবীর আইনজীবী লোকেশ মুখাৰ্জি জানান, চন্দনা দেবীর বিরুদ্ধে গঙ্গাজলঘাঁটি থানায় ৪৯৪ ধারা সহ’ কয়েকটি আভিযোগ দায়ের হয়েছে। তাই আজ তিনি আদালতে আত্মসমৰ্পন করতে আসেন, কিন্তু নিৰ্বাচিত জনপ্ৰতিনিধি বিধায়ক চন্দনা বাউড়ির বিচার প্ৰক্ৰিয়া বারাসাত আদালতের বিচারাধীন বলে সরকারপক্ষের আইনজীবী আদালতের দৃষ্টি আকৰ্ষণ করেন। সে কারণে আমরা আবেদন প্ৰত্যহার করে নিই।পরবৰ্তী পদক্ষেপের প্ৰশ্নে লোকেশ বাবু বলেন, এবার বিজেপির লিগাল সেলে বিষয়টি আলোচনা করে পরবৰ্তী পদক্ষেপ গ্ৰহণ করা হবে।
এদিকে নিজের স্ত্ৰী থাকা সত্বেও চন্দনা বাউড়িকে বিয়ে করার পরেই কৃষ্ণ কুন্ডু অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। বৰ্তমানে তিনি ফের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।তাঁর স্ত্ৰী সৰ্বক্ষণ তাকে আগলে রয়েছেন। প্ৰথম স্ত্রী থাকা সত্ত্বেও চন্দনা বাউড়িকে বিয়ে এবং তার পরবৰ্তী ঘটনায় বিমৰ্ষ কৃষ্ণ কুন্ডু অত্যাধিক মদ্য পানে আসক্ত হয়ে পড়েছেন এবং শারীরিক ভাবে অসুস্থতার শিকার হয়েছেন।

