বান্ধবীর বাড়ি গিয়ে বান্ধবীর রহস্য মৃত্যুর ঘটনায় চাঞ্চল্য ইছাপুর, খুনের অভিযোগ মৃতের পরিবারের

আমাদের ভারত, ব্যারাকপুর, ৮ মে: বান্ধবীর বাড়িতে গিয়ে বান্ধবীর রহস্য মৃত্যুর ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে ইছাপুরে আনন্দ মঠ এলাকায়। মোহনপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত আদর্শপল্লী থার্ড লেনের বাসিন্দা দীপক ব্যানার্জির মেয়ে চর্চিতা ব্যানার্জি। চর্চিতা ব্যানার্জি গতকাল রাতে ইছাপুরে তার বান্ধবী নবনীতা দাসের বাড়ি তার সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে সেখানেই গায়ে আগুন দিয়ে আত্মঘাতী হয় বলে দাবি তার বান্ধবী নবনীতা ও তার পরিবারের।

অপর দিকে মৃতার পরিবারের লোকের স্পষ্ট অভিযোগ, তাদের মেয়েকে তার বান্ধবী নবনীতা দাস এবং তার পরিবারের লোকজন নিজেদের বাড়িতে ডেকে নিয়ে গিয়ে পরিকল্পনা মাফিক খুন করেছে।

প্রসঙ্গত, ২ বছর আগে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে চর্চিতা ও নবনীতার বন্ধুত্ব হয়। সেই বন্ধুত্ব ক্রমে প্রেমে পরিণত হয় বলে দাবি চর্চিতার পরিবারের। তবে সম্প্রতি দুই বান্ধবীর মধ্যে কোনো বিষয় নিয়ে মনোমালিন্য হওয়ায় নবনীতা চর্চিতার সাথে কথা বলা বন্ধ করে দেয় ও তাকে ব্লক করে দেয়। এরপর গতকাল চর্চিতা নবনীতার বাড়ি যায়। সেখানে যাওয়ার পর সেই বাড়িতেই চর্চিতা সকলের অলক্ষ্যে গায়ে আগুন ধরিয়ে আত্মঘাতী হয় বলে দাবি। কিন্তু এই ঘটনাকে খুন বলে দাবি করেছে মৃতার পরিবার। তার কারণ সম্প্রতি চর্চিতাকে অস্বীকার করছিল নবনীতা। কোনো রকম সম্পর্ক সে চর্চিতার সাথে রাখতে চাইছিল না। এমন দাবি চর্চিতার পরিবারের।

নবনীতার সাথে দেখা করতে যাওয়ার সময় চর্চিতার কাছে যে মোবাইল ফোন এবং ব্যাগ ও সাইকেল ছিল সেগুলো কিছুই পাওয়া যায়নি। এ ছাড়াও মৃতার পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, ও যদি সুইসাইড করার হতো তাহলে নিজের বাড়িতেই করতে পারত, কারণ তার বাড়ি গতকাল পুরো ফাঁকা ছিল, পরিবারের কেউ বাড়ি ছিল না। এছাড়াও আরও একটি স্পষ্ট অভিযোগ করা হচ্ছে যে যখন কেউ গায়ে আগুন দেয়, আগুন দেওয়ার পর চিৎকার-চেঁচামেচি শুনতে পায় আশপাশের লোকজন, কিন্তু ওইখানে এলাকার লোকজন কোনরকম চিৎকার-চেঁচামেচি শুনতে পায়নি। পরিবারের লোকের সন্দেহ চর্চিতার পা হাত বেঁধে মুখে কাপড় দিয়ে তারপর ওর গায়ে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে।

এদিন অভিযুক্ত বান্ধবী নবনীতা জানায়, “আমি আমার বান্ধবীকে ব্লক করে দিয়েছিলাম। কারণ আমার ভালো লাগছিল না ওর সাথে কথা বলতে তাই ব্লক করেছিলাম। কিন্তু ওর আর কোনো বান্ধবী ছিল না তাই আমার বাড়ি এসেছিল কিন্তু কথা বলিনি। তাই ও চলে যায়। কিন্তু তারপর কখন ও আমাদের দোতলায় এসে গায়ে আগুন দেয় সেটা আমরা দেখিনি। ওর খুব কষ্ট হচ্ছিল আমি কথা বলছিলাম না বলে তাই হয়তো আত্মহত্যা করেছে।”

অপর দিকে চর্চিতার পরিবারের অভিযোগ, “আমাদের মেয়ে নবনীতাকে ভালোবাসতো কিন্তু এই সম্পর্ক আমরা মেনে নিলেও নবনীতার পরিবার মানতে রাজি ছিল না। এর আগেও ওকে আত্মহত্যা করার জন্য প্ররোচনা দিয়েছিল কিন্তু আমরা সামলে দিয়েছিলাম। কিন্তু এবার ওরা আমার বোনকে ডেকে পুড়িয়ে মেরে দিয়েছে। আমরা এর বিচার চাই।”

শনিবার রাতে আগুন লাগার ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় নোয়াপাড়া থানার পুলিশ। তারা
চর্চিতাকে উদ্ধার করে বিএন বসু হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করে।
এই গোটা ঘটনার তদন্তে শুরু করেছে নোয়াপাড়া থানার পুলিশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *