রাজেন রায়, কলকাতা, ২৫ ডিসেম্বর: মহামারীর সময় বেশিরভাগ মানুষ বাড়িতে থাকার কারণে অনেকেরই অতিরিক্ত মাত্রায় বিদ্যুৎ খরচ হয়েছিল। কিন্তু একই কারণে বহু মানুষের রোজগার কমে যাওয়ায় অথবা কাজ হারানোর কারণে একবারে অতিরিক্ত এত টাকার বিল দেওয়া অনেক মানুষের পক্ষে অসম্ভব ছিল। করোনা মহামারীর জুন থেকে সেই অনাদায়ী ইউনিট বিলে যোগ হওয়া শুরু হতেই অতিরিক্ত বিলের জেরে রীতিমতো আতঙ্কিত হয়ে পড়েন শহরবাসী।
এবার সিইএসসির তরফে জানানো হল, নভেম্বরের বিল থেকে ১০ কিস্তিতে লকডাউনের বকেয়া টাকা ধার্য করা হবে। তার জেরে নভেম্বর থেকে গ্রাহকদের বিল স্বাভাবিকের থেকে কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী হতে পারে। কিন্তু যাতে মানুষের ওপর বাড়তি চাপ না পড়ে, তার জন্য ১০ কিস্তিতে ভেঙে দেওয়া হবে।
বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, লকডাউনের জেরে গত মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত (২৩ মার্চ থেকে ৮ জুন) মিটার রিডিং নেওয়া সম্ভব হয়নি। সেজন্য শেষ ছ’মাসের বিলের গড় করে বিল পাঠানো হয়েছিল। জুন থেকে সেই অনাদায়ী ইউনিট বিলে যোগ করতেই গ্রাহকদের একাংশের ‘অস্বাভাবিক’ হারে বিল আসতে শুরু করে। মামলা দায়ের হয় হাইকোর্টেও। শেষ পর্যন্ত অনাদায়ী ইউনিট যোগ করার কাজ স্থগিত রাখে সিইএসসি।
তারই মধ্যে অক্টোবরে বিদ্যুৎমন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় জানান, আমফান-পরবর্তী সময় বাড়তি বিল সংক্রান্ত যে সমস্যা হয়েছিল, তার ৯৯ শতাংশই সমাধান হয়ে গিয়েছে। এবার থেকে কিস্তিতে সেই বাড়তি বিদ্যুতের বিল মেটানো যাবে। বাড়তি বিল কীভাবে নেওয়া হবে, তা নিয়ে সিইএসসির সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলেও জানান বিদ্যুৎমন্ত্রী। আর এবার সেই পরিকল্পনার কথাই ঘোষণা করল সিইএসসি।
সংস্থার ভাইস-প্রেসিডেন্ট (বণ্টন পরিষেবা) অভিজিৎ ঘোষ জানিয়েছেন, চলতি বছরের নভেম্বরের বিল থেকে আগামী বছরের অগস্ট পর্যন্ত বিলে সেই বকেয়া অঙ্ক নেওয়া হবে। সেই সংক্রান্ত বিস্তারিত হিসাব বিলের অপরদিকের পাতায় দেওয়া থাকবে। এতে সাধারণ মানুষের বুঝতে কোনও অসুবিধা হবে না।

