আমাদের ভারত, ১ মে:দেশজুড়ে করোনার দ্বিতীয় ঢেউতে টালমাটাল পরিস্থিতি। কোথাও শয্যার অভাবে , কোথাও অক্সিজেনের অভাবে মৃত্যু হচ্ছে রোগীর। এবার করোনা মোকাবিলায় রাজ্যগুলিকে যাতে অর্থ সংকটের সম্মুখীন না হতে হয় তা নিশ্চিত করতে বড় পদক্ষেপ নিল কেন্দ্র। নির্ধারিত সময়ের একমাস আগেই বিপর্যয় মোকাবিলা খাতে রাজ্যগুলির প্রাপ্ত অর্থ বরাদ্দ করল কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রক।
শুধু এই অর্থ বরাদ্দ করাই নয় আগের বছরের বরাদ্দের ইউটিলাইজেশন সার্টিফিকেট খতিয়েও দেখা হয়নি এখনও। অর্থাৎ আগের বছর বিপর্যয় মোকাবিলা খাতে বরাদ্দ অর্থ সঠিকভাবে খরচ হয়েছে কিনা তা খতিয়ে না দেখে নতুন করে অর্থ বরাদ্দ করা হলো। শনিবার কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রকের তরফের বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়েছে রাজ্যগুলির বিপর্যয় মোকাবিলা তহবিলের প্রথম কিস্তির ৮ হাজার ৮৭৩.৬ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হলো। রাজ্যের জন্যে বরাদ্দ এই অর্থের অর্ধেক অর্থাৎ ৪৪৩৬.৮ কোটি টাকা রাজ্য গুলি করোনা মোকাবিলায় ব্যবহার করতে পারবে।
এই অর্থ দিয়ে হাসপাতালগুলিতে অক্সিজেন প্লান্ট স্থাপন, ভেন্টিলেটর কেনা, থার্মাল স্ক্যানার এবং অন্যান্য চিকিৎসা সামগ্রী কেনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের পরামর্শ মেনেই আগেভাগে বিপর্যয় মোকাবিলা খাতের টাকা রাজ্যগুলির জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে। সাধারণত এই অর্থ রাজ্যগুলিকে জুন মাসের শুরুতে দেওয়া হয়। কিন্তু এবার পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে একমাস আগেই অর্থ বরাদ্দের সিদ্ধান্ত নিয়েছে অর্থমন্ত্রক। শুধু তাই নয় আগেরবারের বরাদ্দ অর্থ কিভাবে খরচ হয়েছে তাও খতিয়ে দেখা হয়নি।
প্রসঙ্গত করোনার ভ্যাকসিন কেনা নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজ্যগুলির নানা রকম প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে কেন্দ্রকে। একই ভ্যাকসিন সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য রাজ্যগুলিকে কেনো কেন্দ্রের দ্বিগুণ বেশি টাকা খরচ করতে হবে সেই প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে কেন্দ্রকে। সুপ্রিম কোর্টও এই একই প্রশ্ন করেছে কেন্দ্র সরকারকে। তবে অর্থ মন্ত্রকের এই সিদ্ধান্ত কিছুটা হলেও কেন্দ্রের ওপর থেকে চাপ কমাবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

