সোমনাথ বরাট, আমাদের ভারত, বাঁকুড়া, ৩০ জুলাই: স্বাধীনতার ৭৫ বছর পূর্তিতে দেশ জুড়ে চলছে “আজাদী কা অমৃত মহোৎসব” এই উপলক্ষে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী সংস্থা ও কোম্পানি গুলি কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের যৌথ উদ্যোগে ‘উজ্জ্বল ভারত উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ পাওয়ার @২০৪৭’ প্রকল্পের মাধ্যমে বিজলী মহোৎসব পালন করছে।

ডিভিসি ভারতীয় বিদ্যুৎ মানচিত্রে এক অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী সংস্থা। সেই কারণে এই বিজলী মহোৎসবে ডিভিসি তাদের কমান্ড এরিয়া ছাড়াও ঝাড়খন্ড ও পশ্চিমবাংলার প্রতিটি জেলায় সাধারণ মানুষ ও বিদ্যুৎ উপভোক্তাদের বিদ্যুতের ব্যবহার, বিদ্যুতের কারণে মানুষের ব্যবহারিক জীবনের উন্নতি, নিজে কিভাবে বিদ্যুৎ তৈরি করে নিজের খরচ যোগান দেওয়া যায়, পাশাপাশি ইচ্ছা করলে বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করাও সম্ভব এবং সেই উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ কি ভাবে বিক্রি করা যাবে সে বিষয়ে সচেতন করতে এই বিজলী মহোৎসবে’র কর্মসূচি নিয়েছে।
এরাজ্যের প্রতিটি জেলায় একজন করে নোডাল অফিসার নিয়োগ করেছে ডিভিসি। শনিবার এই বিজলী মহোৎসব কর্মসূচি পালন করল ডিভিসি। শনিবার মেজিয়া বিদ্যুৎ প্রকল্প লাগোয়া বিভিন্ন গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রায় ৩ শতাধিক বিদ্যুৎ উপভোক্তাদের নিয়ে অনুষ্ঠানটি হয় বিদ্যুৎ প্রকল্পের অডিটরিয়ামে। এখানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শালতোড়া বিধানসভার বিজেপি বিধায়ক চন্দনা বাউরি, গঙ্গাজলঘাঁটি পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি তথা তৃণমূল নেতা নিমাই মাজি, পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ জীতেন গরাই, বাঁকুড়া জেলার বিশিষ্ট সমাজকর্মী তথা ডিটিওএ’র সভাপতি গৌতম মিশ্র সহ অনেকে। এই অনুষ্ঠানে ছিলেন মেজিয়া বিদ্যুৎ প্রকল্পের চিফ ইঞ্জিনিয়ার (ও অ্যান্ড এম) চৈতন্য প্রকাশ, ডিজিএম ওম প্রকাশ, ডেপুটি চিফ ইঞ্জিনিয়ার শিববচ্চন পাল সহ অনেকে।

চিফ ইঞ্জিনিয়ার চৈতন্য প্রকাশ বলেন, এই বিজলী মোহোৎসব কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের একটি যৌথ উদ্যোগ। এর উদ্দেশ্য হল, নিজের বিদ্যুৎ নিজে তৈরি করো। সে কারণে বাড়ির ছাদে বা পড়ে থাকা ফাঁকা জায়গায় সোলার প্যানেল বসিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব। এই সোলার প্যানেল বসাতে যা খরচ হবে তার ৩০ শতাংশ কেন্দ্র ও ৩০ শতাংশ রাজ্য সরকার ভর্তুকি হিসেবে দেবে। এই প্রকল্পে ৩০ % ব্যাঙ্ক ঋণও পাওয়া যাবে।
এই প্রকল্পের বাঁকুড়া জেলার নোডাল অফিসার বিজি হোলকার বলেন, সোলার পাম্পিং সেটের মাধ্যমে কৃষি কাজে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পাওয়া যাবে। এর ফলে প্রায় ৬০ শতাংশ বিদ্যুৎ খরচ সাশ্রয় হবে। পাশাপাশি বেশি উৎপাদনোক্ষম সোলার প্যানেল বসালে উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ গ্রিডের মাধ্যমে বাণিজ্যিক ভাবে সরবরাহ করতে পারবেন কোনো ব্যক্তি। ডিভিসি কর্তৃপক্ষ সেই কারণেই এলাকার সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে এবং এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য এবং সুযোগ সুবিধা কি রয়েছে তা জানানোর জন্যই এই উৎসবের আয়োজন করেছে।

ডিভিসি মূলত কয়লা পুড়িয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে। যদিও এই সংস্থার জলবিদ্যুৎ ও গ্যাস টারবাইন রয়েছে। কিন্তু যেহেতু উৎপাদনের সিংহভাগটাই কয়লা থেকে উৎপাদন হয় সে কারণে একটা সময় কয়লার ভান্ডার শেষ হলে তার বিকল্প চিন্তা ভাবনা এখন থেকেই করার পরিকল্পনা নিয়েছে সংস্থাটি। ইতিমধ্যে তারা সোলার প্যানেল বসানোর কাজও শুরু করে দিয়েছে বলে জানান বিজি হোলকার।

