অশোক সেনগুপ্ত, আমাদের ভারত, ৩১ মার্চ: আম জনতার অনেকে ওঁদের দেখে নাক সিঁটকান। সেই রূপান্তরকামী মানুষদের সত্তাকে মেনে নেওয়ার দিন আজ। তারাও যে আপনার বা আমার মতো খুব সহজ সরল মানুষ ও সমাজের প্রতিটি স্তরে বিদ্যমান, তা স্বীকার করে নেওয়ার দিন।
বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক ট্রান্সজেন্ডার ভিসিবিলিটি ডে। এই উপলক্ষ্যে গোখেল রোড বন্ধন ও এ.টি.এইচ.বি (অ্যাসোসিয়েশন অফ ট্রান্সজেন্ডার এন্ড হিজড়া ইন বেঙ্গল ) এর পক্ষ থেকে ব্রিটিশ হাই কমিশন ও অস্ট্রেলিয়ান কন্সুলেটে পৃথক ভাবে দিবসটি পালন করা হল।
‘গরিমা গৃহ’-র প্রশিক্ষণ অফিসার (ব্রিজ কোর্স সমন্বয়কারী) সোহিনী বড়াল এই প্রতিবেদককে এ খবর জানিয়ে বলেন, “আজকের এই দিনের মাহাত্ম্য হয়ত আপনার আমার আর পাচঁটি সাধারণ মানুষের থেকে অজানা। সমাজের মূল স্রোতের থেকে ছিটকে থাকা মানুষদের দেখে অনেকে দূরে সরে যান। কিন্তু
রূপান্তরকামীরা সমাজের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। প্রায় ৬০ জন অংশগ্রহণকারী আজ উপস্থিত ছিলেন।
আজকের এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ব্রিটিশ ডেপুটি হাই কমিশনার (ইস্ট ও নর্থ ইস্ট ইন্ডিয়া) নিক লো, নৃত্যশিল্পী তথা সমাজকর্মী অলকানন্দা রায়, ‘তালাশ ফাউন্ডেশন’-এর এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর আয়েশা সিনহা, ‘নো পাসপোর্ট ভয়েস বাংলাদেশ’- এর কর্ণধার ফাতেমা ওয়ারিথা এহসান, ‘প্রান্তকথা’-র কর্ণধার বাপ্পাদিত্য মুখার্জি, ছবি নির্মাতা অনিন্দিতা সর্বাধিকারি এবং গোখেল রোড ও এ.টি.এইচ.বি (অ্যাসোসিয়েশন অফ ট্রান্সজেন্ডার এন্ড হিজড়া ইন বেঙ্গল) এর কর্ণধার রঞ্জিতা সিনহা। রূপান্তরকামী সম্প্রদায়ের অনেক সদস্যর সাথে সেখানে উপস্থিত ছিলেন ভারত তথা পূর্ব এশিয়ার প্রথম রূপান্তরকামীদের আবাসন ‘গরিমা গৃহ’-র সদস্যরা।
বিশেষ আবেগঘন পূর্ণ মুহূর্তে বহু লড়াইয়ের ফসল আজকের এই দিনটির সম্পর্কে রঞ্জিতা সিনহা তাঁর বহু অভিজ্ঞতার কথা সবার সাথে ভাগ করে নেন। ১৫ এপ্রিল সাড়ম্বরে ‘রূপান্তরকামী দিবস’ পালন করার কথাও আজ তিনি ঘোষণা করেন।

