আশিস মণ্ডল, আমাদের ভারত, বীরভূম, ২০ অক্টোবর: বাড়ি ফিরেই পুজো উদ্যোক্তাদের রাজকীয় সম্বর্ধনায় পঞ্চমীর সন্ধ্যা কাটল চন্দ্রযান থ্রি’র সাফল্যের অন্যতম কারিগর মহাবিজ্ঞানী বিজয় কুমার দাইয়ের। মল্লারপুর থেকে রামপুরহাট মোট ছয়টি পুজোর উদ্বোধন করেন তিনি। নিজের শহরে এমন সম্মাননা পেয়ে আপ্লুত বিজয়বাবু।

চন্দ্রযান থ্রি’র সফল অভিযানের পর রীতিমতো সেলিব্রিটি হয়ে পড়েছেন ইসরোর বিজ্ঞানীরা। রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় যেমন পুজোর মণ্ডপের থিমে স্থান দখল করে নিয়েছে চন্দ্রযান বহনকারী রকেট এলভিএম থ্রি এম ফোর, তেমনই নেতা মন্ত্রী ও সেলিব্রিটিদের পিছনে ফেলে পুজোর উদ্বোধনে জায়গা দখল করে নিয়েছেন চন্দ্রযান থ্রি অভিযানের কৃতী বিজ্ঞানীরা। ফলে বাদ যাননি বীরভূমের মল্লারপুর থানার দক্ষিণগ্রামের বাসিন্দা বিজ্ঞানী বিজয় কুমার দাই। পুজোর আগে থেকে একাধিক পুজো কমিটি তাঁর বাড়িতে ভিড় জমান। দাবি তাঁদের পুজোর উদ্বোধন করতে হবে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে বাড়ি ফিরেছেন বিজয়বাবু। দীর্ঘ রাস্তা প্লেন এবং সড়ক পথে পাড়ি দিয়ে বাড়ি ফিরে ক্ষণিকের বিশ্রাম নিয়ে বেরিয়ে পড়েন পুজো উদ্যোক্তাদের অনুরোধ রক্ষা করতে। সঙ্গে নেন দাদা প্রাথমিক শিক্ষক বিনয় দাই, ভাই বিকাশ দাই এবং গ্রামের স্কুলের শিক্ষক সুবীর রায়। প্রথমেই মল্লারপুর ধর্মরাজতলা পুজোর উদ্বোধন করেন তিনি। এরপর রামপুরহাট শহরের দশের পল্লি, সানঘাটা সর্বজনীন, কালীসাঁড়া-আমতলা সর্বজনীন, চাঁদমারি আবাসিকবৃন্দের দুর্গাপুজোর উদ্বোধন করেন ইসরোর বিজ্ঞানী বিজয় কুমার দাই।

পুজোর উদ্যোক্তাদের দাবি, বিজ্ঞানীরায় তো আমাদের কাছে মানুষরূপী বিশ্বকর্মা। তাইতো তারা ব্রহ্মান্ড জয় করে চাঁদ জয় করেছে। চাঁদের মাটিতে শিবদুর্গার নামে স্থান চিহ্নিত করেছেন। পুজোর উদ্যোক্তাদের কাছে এইভাবে আমন্ত্রণ পেয়ে খুশি চন্দ্রযান থ্রির বিজ্ঞানীরা। সময় কম থাকায় তিনি প্রত্যেক পুজো মণ্ডপে সংক্ষেপে সাফল্যের কথা শোনান। সেই সঙ্গে তিনি বলেন, “ইচ্ছে থাকলে প্রত্যন্ত গ্রাম থেকেও চাঁদ জয় করা যায়। আমার লক্ষ্য ছিল বিজ্ঞানী হয়ে চাঁদে পৌঁছব। এখন বিক্রম গিয়েছে। এরপর একদিন আমরাও চাঁদে পৌঁছব”।

