জয় লাহা, আমাদের ভারত, দুর্গাপুর, ৪ জুন: ভোট পরবর্তী হিংসার ঘটনার জের। এবার ডাক পড়ল বীরভূম জেলার তৃণমূল সহ সভাপতি তথা বিধায়ক অভিজিৎ সিংহ ওরফে রানা সিংহ’র। সিবিআইয়ের জেরা থেকে বাদ পড়ল তারপীঠের সেবাইত অচিন্ত ভট্টাচার্য। একইসঙ্গে হাজিরা দিলেন কেতুগ্রামের তিনবারের বিধায়ক শেখ শাহনাওয়াজ।
প্রসঙ্গত, গত কয়েকদিন ধরে ভোট পরবর্তী হিংসার মামলায় সিবিআইয়ের জেরার মুখে বীরভূম, বর্ধমান ও বাঁকুড়া জেলার একাধিক তৃণমূল বিধায়ক ও নেতা।
দুর্গাপুর এনআইটি কলেজে সিবিআইয়ের অস্থায়ী দফতর। সেখানে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে ওইসব দুঁদে নেতা ও বিধায়কদের। ইতিমধ্যে ভোট পরবর্তী হিংসা মামলায় বীরভূম জেলার বোলপুর লোকসভার একাধিক তৃণমূল নেতা, বিধায়ক সহ আউশগ্রাম ২ নম্বর ব্লকের কার্যকরী সভাপতিকে তলব করে দীর্ঘক্ষণ জেরা করা হয়েছে।
বীরভূম জেলার মহম্মদ বাজার ব্লকের তৃণমূল সভাপতি তাপস সিনহা, সিউড়ি পুরসভার চেয়ারম্যান বিপ্লব দত্ত সহ বিধায়ক নীলাবতী সাহার স্বামী দেবাশীষ সাহা সহ মোট ছ’জনকে তলব করেছিল সিবিআই। শনিবার ফের বীরভূম জেলা সভাপতি অনুব্রত মন্ডল ঘনিষ্ঠ একাধিক তৃণমূল বিধায়ক ও নেতাকে তলব করে সিবিআই। ভোট পরবর্তী হিংসার মামলায় শনিবার দুর্গাপুরে এনআইটি কলেজে তলব করা হয় লাভপুরের বিধায়ক অভিজিৎ সিংহ, কেতুগ্রামের বিধায়ক শেখ শাহনাওয়াজ। সিবিআইয়ের জেরা থেকে রেয়াত পায়নি তারাপীঠ মন্দিরের সেবাইত অচিন্ত ভট্টাচার্য সহ আরও কয়েকজন। জানা গেছে, এদের অনেকে ২০২১ সালে ২ মে ভোটের ফলাফল প্রকাশের পর অনুব্রত মন্ডলকে ফোন করেছিলেন।
এদিন তারাপীঠ মন্দিরের সেবাইত অচিন্ত ভট্টাচার্য বলেন, “তৃণমূলের জয়ের পর আমি অনুব্রত মন্ডলকে ফোন করে অভিনন্দন জানিয়েছিলাম। অনুব্রত মন্ডলের ফোনের কললিস্টে আমার নম্বর পাওয়ায় তলব করা হয়েছিল।” কেতুগ্রামের তিনবারের তৃণমূল বিধায়ক শেখ শাহনাওয়াজ বলেন, “অনুব্রত মন্ডল বোলপুর লোকসভার দলের অবসারভার। তাই ফোন করতে হত। আমার ফোন নম্বর অনুব্রতর মোবাইলের কললিস্টে পাওয়াতে আমাকে ফোন করে ডাকা হয়েছিল। সিবিআই যে বিরক্ত করে সে রকম কিছু হয়নি।”
বীরভূমের তৃণমূল কংগ্রেসের সহ সভাপতি তথা লাভপুরের বিধায়ক অভিজিৎ সিংহ বলেন, “আমাদের দল তৃণমূল কংগ্রেস হিংসায় বিশ্বাসী নয়। হিংসাকে সমর্থন করে না। শান্তি এবং উন্নয়নকে সঙ্গে নিয়ে চলে তৃণমূল কংগ্রেস। সিবিআই ডেকেছিল, এসেছিলাম।”

