আমাদের ভারত, ১১ এপ্রিল:ভোট পরবর্তী হিংসা মামলায় পদক্ষেপ করল সিবিআই। কেশপুরের এক বিজেপি কর্মীর খুনের অভিযোগ ওঠে গত আগস্ট মাসে। সেই ঘটনার তদন্তে নেমে ১২১ জন তৃণমূল নেতাকে নোটিশ পাঠিয়েছে সিবিআই। ইতিমধ্যে একাধিক জনকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদও শুরু করেছে।
জানা গেছে গত দুদিনে ৯ জনকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে সিবিআই। যদিও তৃণমূলের দাবি তাদের হেনস্থা করার জন্যেই এই নোটিশ পাঠানো হচ্ছে। বিজেপি ভোটবাক্সে মানুষের সমর্থন পায়নি বলে প্রতিহিংসার বশে এই সব করছে। কিন্তু বিজেপির সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেছেন, “সকলেই জানে কি জঘন্য অপরাধ হয়েছে এখানে। এখনো পর্যন্ত তা বন্ধ হয়নি। ঘটেই চলেছে প্রতিদিন। মৃত্যু হচ্ছে, নাবালিকাকে ধর্ষণ করে খুন করে দিচ্ছে। জলজ্যান্ত মানুষকে প্রকাশ্যে মারছে। আমরা চাই সিবিআই দোষীদের সাজা দিয়ে মানুষের মনোবল ফিরিয়ে দিক।”
বিজেপির অভিযোগ একুশের বিধানসভা ভোটে তৃণমূল জেতার পরেই বিজেপি কর্মীদের যথেচ্ছভাবে প্রাণে মেরেছে। এই নিয়ে ভোট-পরবর্তী হিংসা মামলাও দায়ের হয়। কলকাতা হাইকোর্ট সিবিআইকে তদন্তভার দেয়। গত বছরের আগস্টে কেশপুরের কইগেরিয়া বাজার এলাকায় বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে বেধড়ক মারধর করার অভিযোগ ওঠে বিজেপি নেতার সুশীল ধারাকে। দু’দিন হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন সুশীল। তারপর মারা যান তিনি। সুশীল ধারার মেয়ে অভিযোগ করেন, তাঁর বাবাকে খুন করা হয়েছে। ১২১ জন তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে সিবিআইয়ের কাছে অভিযোগ দায়ের হয়। অভিযুক্তের তালিকায় আছেন কেশপুরের তৃণমূল ব্লক সভাপতি থেকে শুরু করে ব্লকের ১৪টি অঞ্চলের সভাপতি ও কেশপুরের একাধিক দাপুটে নেতা। সিবিআইয়ের ডাক পেয়েছেন কেশপুরের তৃণমূল নেতা মহম্মদ রফিক।
তৃণমূল নেতা মহম্মদ রফিকের বলেন, “আমরা মনে করি তৃণমূলকে হেনস্থা করতেই সিবিআই এই কাজ করছে। পশ্চিম বাংলার মানুষের ভোট পায়নি কেন্দ্রের শাসকদল। এখনতো বিজেপির দুটি সংস্থা এক রাজ্যপাল অন্যটি সিবিআই। কিন্তু এই দুই জুজু দেখিয়ে কেশপুরের মানুষকে ভয় দেখানো যাবে না।” তার দাবি, “২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে সাধারণ মৃত্যু হয়েছে। কোনও ময়না তদন্ত না করে দেহ দাহ হয়েছে। এখন পাঁচ মাস পর মেয়ে ডেবরা থেকে কেশপুর এসে বিজেপির মদতে এসব করছে। আমাদের সকলকে খুনের অভিযোগে অভিযুক্ত করার পরিকল্পনা চলছে।”
দিলীপ ঘোষ বলেন, সাধারণ মানুষ পুলিশের উপর ভরসা রাখতে না পেরে সিবিআইয়ের কাছে যাচ্ছে। আর সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

