জয় লাহা, আমাদের ভারত, দুর্গাপুর, ১৩ জুন: ভোট পরবর্তী হিংসার ঘটনায় দলীয় কর্মীদের বাঁচতে তৃণমূল নেতৃত্বকে ফোন। আর সেটাই যেন অভিশাপ হয়ে দাঁড়ল রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল বিজেপির দাপুটে নেতার। হিংসার মামলায় এবার সিবিআই-এর জেরার মুখে পড়ল বীরভূমের দাপুটে বিজেপি নেতা কালোসোনা মন্ডল। হাজিরা দিয়ে বেরিয়ে এসে নিজেকে গর্বিত বলে দাবি করলেন তিনি।
প্রসঙ্গত, গত ২০২১ সালের ২ মে বিধানসভা ভোটের ফলাফলের পর রাজ্যজুড়ে হিংসার ঘটনা ঘটেছে। আক্রান্ত হয়েছে বিজেপি কর্মীরা।
যার মধ্যে বেশি হিংসার ঘটনার নজির রয়েছে বীরভূম, পূর্ব বর্ধমান, পশ্চিম বর্ধমান দুই ২৪ পরগণা জেলায়। ফলাফল ঘোষণার দিনেই ইলামবাজারে গোপালনগরে খুন হয়েছিল বিজেপি কর্মী গৌরব সরকার। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে সিবিআই ওই মামলার তদন্ত শুরু করেছে। গত কয়েকদিন ধরে ভোট পরবর্তী হিংসার মামলায় সিবিআইয়ের জেরার মুখে বীরভূম, বর্ধমান ও বাঁকুড়া জেলার একাধিক তৃণমূলের বিধায়ক ও নেতা। দুর্গাপুর এনআইটি কলেজে সিবিআইয়ের অস্থায়ী দফতর। সেখানে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে ওইসব দুঁদে নেতা ও বিধায়কদের। ইতিমধ্যে ভোট পরবর্তী হিংসা মামলায় বীরভূম জেলার বোলপুর লোকসভার একাধিক তৃণমূল নেতা, বিধায়ক সহ আউশগ্রাম ২ নম্বর ব্লকের কার্যকরী সভাপতিকে তলব করে দীর্ঘক্ষণ জেরা করা হয়েছে। বীরভূম জেলার মহম্মদ বাজার ব্লকের তৃণমূল সভাপতি তাপস সিনহা, সিউড়ি পুরসভার চেয়ারম্যান বিপ্লব দত্ত সহ বিধায়ক নীলাবতী সাহার স্বামী দেবাশীষ সাহা সহ মোট ছ’জনকে তলব করেছিল সিবিআই। শনিবার ফের তৃণমূলের বীরভূম জেলা সভাপতি অনুব্রত মন্ডল ঘনিষ্ঠ একাধিক তৃণমূল বিধায়ক ও নেতাকে তলব করে সিবিআই। ভোট পরবর্তী হিংসার মামলায় দুর্গাপুরে এনআইটি কলেজে তলব করা হয় লাভপুরের বিধায়ক অভিজিৎ সিংহ, কেতুগ্রামের বিধায়ক শেখ শাহনাওয়াজ। সিবিআইয়ের জেরা থেকে রেয়াত পায়নি তারাপীঠ মন্দিরের সেবাইত অচিন্ত ভট্টাচার্য।
জানা গেছে, এদের অনেকে ২০২১ সালে ২ মে ভোটের ফলাফল প্রকাশের পর অনুব্রত মন্ডলকে ফোন করেছিলেন। এবার ভোট পরবর্তী হিংসার মামলায় তলব করা হয় বীরভূমের দাপুটে বিজেপি নেতা তথা জেলার বিজেপির প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক কালোসোনা মন্ডলকে। সোমবার দলের প্রাক্তন জেলা সভাপতি রামকৃষ্ণ রায়কে সঙ্গে নিয়ে দুর্গাপুর এনআইটি কলেজে সিবিআইয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পে হাজিরা দেন। প্রশ্ন, বিজেপির এই দাপুটে নেতাকে তলব কেন সিবিআইয়ের। প্রসঙ্গত, গত কয়েকমাস ধরে বীরভূম জেলা বিজেপির অন্দরে এই দুঁদে নেতাকে নিয়ে জোর জল্পনা সৃষ্টি হয়েছিল। এবার সিবিআইয়ের জেরায় সেই জল্পনা কার্যত খানিকটা উস্কে দেয়। প্রশ্ন তাহলে কি ওইদিন তিনি তৃণমূলের অনুব্রত মন্ডলকে ফোন করেছিলেন? যদিও, বীরভূমের বিজেপির প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক কালো সোনা মন্ডলের দাবি, “ভোট পরবর্তী তৃণমূলের হিংসার ঘটনায় দলের কর্মীরা আক্রান্ত হয়েছে। বহু সম্পত্তি নষ্ট হয়েছে। সবথেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, নানুর, ইলামবাজার, লাভপুর, রামপুরহাট, সিউড়ি, দুবরাজপুর। ওই সময় যে কোনোভাবেই দলের জেলা নেতৃত্ব আক্রান্ত দলীয় কর্মীদের পাশে দাঁড়াতে পারেনি। আমি নিজে আক্রান্ত কর্মীদের পাশে দাঁড়িয়েছিলাম।” তিনি বলেন,” যখন পুলিশ প্রশাসন সেভাবে কাজ করছে না। তখন বাধ্য হয়ে হিংসা থেকে দলীয় কর্মীদের বাঁচাতে তৃণমূলের কয়েকজন নেতাকে ফোন করেছিলাম। এবং হিংসা বন্ধের আবেদন করেছিলাম। সেই কারণে হয়তো সাক্ষী হিসাবে আমাকে তলব করা হয়েছে। সিবিআই আধিকারিকরা যা কিছু জিজ্ঞাসা করেছে তার উত্তর দিয়েছি।” তিনি আরও বলেন,” আমি খুব খুশি। যেটা রটনা হয়েছে, সেটা ঘটনা নয়। সিবিআই আমাদের মত লোকজনকে না ডাকলে আসল সত্য উদ্ঘাটন হবে না। সমস্ত ঘটনা বলেছি।”
যদিও কালোসোনাবাবুর দাবিকে কিছুটা তাচ্ছিল্য করে বীরভূমের বিজেপির জেলা সভাপতি ধ্রুব সাহা সপাটে বলেন, “কেন ডেকেছিল সেটা তিনি বলবেন। তৃণমূল নেতৃত্বকে দলের কে ফোন করতে বলেছিলেন ওনাকে?”

