আমাদের ভারত, ১৮ অক্টোবর:
সিবিআইয়ের তলবে সল্টলেকে সিজিও কমপ্লেক্স গিয়েছিলেন তৃণমূলের কাউন্সিলর বিধাননগরের মেয়র পারিষদ দেবরাজ চক্রবর্তী। ভোট-পরবর্তী হিংসা মামলায় মঙ্গলবার সকাল ১১ টায় রাজারহাট গোপালপুর কেন্দ্রে তৃণমূল বিধায়ক অদিতি মুন্সির স্বামী দেবরাজকে তলব করে সিবিআই। তলব পেয়ে তিনি হাজিরা দেন আজ। দুঘন্টা জেরা চলে তার।
ভোট-পরবর্তী হিংসায় ২০২১ সালে প্রসেনজিৎ দাস নামে এক বিজেপি কর্মীকে হত্যার অভিযোগ ওঠে। বাড়ির বাইরে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়েছিল। এই ঘটনায় অভিযোগ দায়ের হয়। ২০২২ সালে তদন্তভার যায় সিবিআইয়ের হাতে। এই ঘটনার তদন্তে জিজ্ঞাসাবাদ করতে মঙ্গলবার দেবরাজকে ডেকে পাঠিয়েছিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।
তবে এই ঘটনায় এফআইআর-এ নাম ছিলো না দেবরাজের। পরে তদন্তে তার নাম উঠে আসে। সেই কারণেই তৃণমূলের এই যুব নেতাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে সিবিআই বলে খবর।
সিবিআই দপ্তরে ঢোকার আগে দেবরাজ বলেন,” আমি আইন মেনে চলা নাগরিক। আমায় ডাকা হয়েছে তদন্তের কাজে সহযোগিতা করতে আমি এসেছি। ভিতরে কি হবে ওরাই বলতে পারবেন। ওরা যা জানতে চাইবেন আমার কাছে যা তথ্য রয়েছে তা জানিয়ে আমি সাহায্য করবো।”
দুঘন্টা জেরার পর বাইরে এসে তৃণমূলের যুব নেতা বলেন, “যা যা প্রশ্ন করা হয়েছিল সব উত্তর দিয়েছি। যা জানতে চাওয়া হয়েছিল, সব জানিয়েছি। পরবর্তী সময়ে আবার ডাকলে আসব। দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে তদন্তের মুখোমুখি হয়েছি।”
২১-র বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে অশান্তির ঝড় উঠতে থাকে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মীদের, বিশেষ করে বিজেপি কর্মীদের হত্যার অভিযোগ ওঠে। যা ঘিরে তোলপাড় হয় রাজ্য রাজনীতি। ভোট পরবর্তী হিংসায় নাম জোড়ায় বীরভূমের জেলা তৃণমূল সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলেরও। যিনি এখন গরু পাচার মামলায় জেলবন্দি। এই পরিস্থিতিতে তৃণমূলের আরো এক নেতাকে সিবিআইএর ডেকে পাঠানোর বিষয়টি যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।

