আমাদের ভারত, ৪ এপ্রিল:কোনভাবেই দমে যাওয়ার পাত্র নন মহারাষ্ট্র নবনির্মাণ সেনা প্রধান রাজ ঠাকরে ও তার দলের কর্মীরা। আগেই মসজিদে লাউডস্পিকারে আজান বাজানোর যাবেন না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। বলেছিলেন মহারাষ্ট্র সরকার এই বিষয়ে পদক্ষেপ না করলে মসজিদের সামনে লাউডস্পিকারে হনুমান চালিশা বাজানো হবে। কথা মতো কাজ করে জরিমানা দিতে হয়েছে। কিন্তু তারপরেও বাড়তি আগ্রহ নিয়ে লাউডস্পিকারে হনুমান চালিশা বাজানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে মহারাষ্ট্র নবনির্মাণ সেনা।
হনুমান চালিশা বাজানোর ফলে রবিবার লাউডস্পিকার বাজেয়াপ্ত করে মহারাষ্ট্র নবনির্মাণ সেনার এক কর্মীকে জরিমানা করেছিল মহারাষ্ট্র পুলিশ। কিন্তু তারপরেও কোনোভাবেই দমানো যাচ্ছে না রাজ ঠাকুরের কর্মীবাহিনীকে। একের পর এক মসজিদের সামনে হনুমান চালিশা বাজানোর জন্য একের পর এক লাউডস্পিকার আনার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা।
রবিবার মুম্বাইয়ের চান্ডিভালি এলাকায় মহেন্দ্র ভানুশালি নামে এক এমএনএস নেতাকে আটক করে পুলিশ। মসজিদের সামনে একটি গাছে লাউডস্পিকার লাগিয়ে তাতে হনুমান চালিশা বাজাচ্ছিলেন তিনি। সেই লাউডস্পিকার খুলে নেয় পুলিশ। তাকে আটক করে। কিছুক্ষণ পরে মহেন্দ্রকে ছেড়ে দিলেও তাকে সাড়ে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একইসঙ্গে তিনি এমন কাজ যাতে না করেন তার জন্য নোটিশ দিয়েছে পুলিশ।
তবে মহেন্দ্র অভিযোগ করেছেন তাকে ভগবানের আরতি করতে বাধা দিচ্ছে পুলিশ। এতে তার ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত লেগেছে। তিনি আরও জানান আগামী বুধবার থেকে প্রত্যেক দিন সকাল-সন্ধ্যায় লাউডস্পিকারে হনুমান চালিশা বাজাবেন। পাড়ায় পাড়ায় তার আয়োজন শুরু হচ্ছে সোমবার থেকেই। ঠাকরের দল জানিয়েছে, ইতিমধ্যে লাউডস্পিকারের বায়না দেওয়া হয়ে গেছে।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য শনিবার একটি সভায় রাজ ঠাকরেকে বলতে শোনা গিয়েছিল, “মসজিদের সামনে লাউডস্পিকার লাগানোর কী প্রয়োজন? ওই ধর্ম যখন প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল তখন কি লাউডস্পিকার ছিল?”তারপরই তিনি হুশিয়ারি দেন লাউডস্পিকার বন্ধ না হলে তার দলের নেতাকর্মীরা এবার লাউডস্পিকারে হনুমান চালিশা বাজাবেন। তারা আরও অভিযোগ ছিল, মুম্বাইয়ের মাদ্রাসাগুলিতে পাকিস্তানের সমর্থকরা থাকে, প্রশাসন সেটা জানা সত্বেও চুপ করে রয়েছে। এছাড়াও শরদ পাওয়ার ও তার দল এনসিপির বিরুদ্ধে ধর্মীয় বিভাজনের রাজনীতি করার অভিযোগ করেন রাজ ঠাকরে।

