“আমরা কি এদেশে থাকতে পারবো, “অসহায় প্রশ্ন ঢাকার হিন্দু যুবকের

অশোক সেনগুপ্ত, আমাদের ভারত, ১৯ অক্টোবর:
“একটা অজানা ভয় আমাদের আতঙ্কিত করে রাখে যে আমরা কি এদেশে থাকতে পারবো?“ বাংলাদেশে ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তায় এভাবেই ভুগছে অজয় কুমার তীর্থ। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এটাই ছিল তাঁর অসহায় প্রশ্ন।

তিনি এই প্রতিবেদককে জানান, “আমি বাংলাদেশের ঢাকায় থাকি। গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালী, বরিশাল। আমার পূর্বপুরুষদের বাসবাস এ অঞ্চলেই। বিএসসি ইন রেডিওলজি এন্ড ইমেজিং বিভাগে পড়ছি। পাশাপাশি মেডিকেল টেকনোলজিস্ট হিসাবে ঢাকার একটি প্রাইভেট হাসপাতালে কাজ করি। আমার বাবা মা গ্রামে থাকে। এখন আমি শাহবাগের এক বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে ফিরছি।”

তীর্থ জানান, “এখানে যতগুলো সাম্প্রদায়িক হামলা হয়েছে তার একটিরও আজ পর্যন্ত বিচার হয়নি। মূলত বিচারহীনতার সংস্কৃতি, লেখক বুদ্ধিজীবীদের নিরবতা আমাদের এদেশে বসবাসের অনুপযোগী হয়ে যাচ্ছে। এই সঙ্গে রয়েছে ক্রমবর্ধমান মৌলবাদীদের আস্ফালন। আমাদের মিডিয়া স্বাধীন নয় তাই আমাদের নির্যাতিত হওয়ার অনেক খবর বিশ্বের কেউ জানতে পারে না।

পুলিশ প্রশাসন এবং সরকারি দলের নেতা কর্মীরা এবিষয়ে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে ব্যর্থ হয়েছে। প্রায় প্রতিদিন দেশের কোথাও না কোথাও হিন্দুদের উপর হামলা হচ্ছে, মন্দির প্রতিমা ভাঙ্গচুর হচ্ছে এবং অনেক হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ নিরবে দেশ ছাড়তে বাধ্য হচ্ছে। তাইতো আমরা ২০% থেকে ৮% এ ঠেকেছি।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংখ্যালঘুদের আশ্বস্ত করেছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান দাবি করেছেন, বাংলাদেশে হামলা পূর্ব পরিকল্পিত, প্ররোচনামূলক। হাসিনা সরকারের মন্ত্রীর দাবি, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করাই ছিল হামলাকারীদের উদ্দেশ্য। এর নেপথ্যে কারও কায়েমি স্বার্থ রয়েছে বলে মনে করছে বাংলাদেশ প্রশাসন। তাঁর আরও দাবি, এই হামলার নেপথ্যে কোনও তৃতীয় পক্ষের উস্কানি রয়েছে। হিংসার মাধ্যমে বাংলাদেশের স্থিতাবস্থা বিঘ্নিত করার চেষ্টা চালানো হয়েছে। প্রমাণ পেলেই তা প্রকাশ্যে আনা হবে এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হবে বলেও জানিয়েছেন বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এত সবের পরেও তীর্থর আতঙ্ক, “জানি না কি হবে তবে আমাদের জন্য আশীর্বাদ করবেন।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *