তাড়িয়ে দিলে দিতে পারে, আমার হৃদয়ে অভিষেক, নয়নে মমতা: মদন মিত্র

আমাদের ভারত, ১১ ফেব্রুয়ারি: “মানুষ যদি বলে, তবে ক্ষমা চাইব। আমি কোনও অন্যাই করিনি, পাপ করিনি। তাড়িয়ে দিলে দিতে পারে, আমার হৃদয়ে অভিষেক, নয়নে মমতা।” মদন মিত্রের গতকালের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে কড়া ব্যবস্থা নিচ্ছে দল, এমনকী শোকজও করা হচ্ছে তাঁকে। এই প্রেক্ষিতে এদিন এরকম ভাষায় সাফ বার্তা জানিয়ে দিলেন কামারহাটির বিধায়ক।

শুক্রবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে এই মন্তব্য করেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী মদন মিত্র। দলের প্রতি আনুগত্য রেখেই তৃণমূল নেতা বলেন, তাঁকে তাড়ালেও তিনি দল ছাড়বেন না, প্রয়োজনে সিনেমায় চলে যাবেন। পাশাপাশি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়েও নিজের মতামত জানিয়ে দেন তিনি।

মদনবাবু বলেন, “এই তো টিভিতে দেখছি অভিষেক না কি পদত্যাগ করতে পারে। ওর পাপ কী? সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেন, ববি হাকিম জানিয়েছেন, এক ব্যক্তি এক পদ নীতি বলে দলে সেরকম কিছু নেই। প্রতিক্রিয়ায় মদনবাবু বলেন, “ববি হচ্ছে কোর কমিটির সদস্য। আমি শুনেছি দলে এক ব্যক্তি এক পদ নীতি। নিশ্চয়ই সেটা মানা হবে। অরূপ, ববি, পার্থ চ্যাটার্জি সবাইকেই মেনে চলতে হবে। আমি নীতির কথা কী বলব?“

মদনবাবু বলেন, “দল শোকজ করলে উত্তর দেব। আমি অভিষেক অনুগামী নই। অভিষেক আমার ছোট ভাইয়ের মতো, কোলে নিয়ে ঘুরতাম। রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূলে যোগদান করল, কটুকথা বলল কল্যাণ। সৌগত রায় প্রকাশ্যে আইপ্যাক নিয়ে বলেছেন, আমি বলিনি। মমতা যদি বলেন এক ব্যক্তি সব পদ, তাই মেনে নেব।

পাশাপাশি তিনি এও বলেন, “আমার বিরুদ্ধে কোনও দুর্নীতির অভিযোগ নেই। প্রমাণ করতে হবে আমি নির্বাচনের টাকা চুরি করেছি। আমি এক ব্যক্তি এক পদে বিশ্বাস করি না। আমাকে তাড়িয়ে দিতেই পারে। তার আগে প্রমাণ দিতে হবে আমার জন্য কটা ভোট নষ্ট হয়েছে?’

প্রসঙ্গত, গতকাল সকালে বিস্ফোরক মন্তব্যের পর রাতেই ক্ষমা চেয়ে নেন মদন মিত্র। ফেসবুক লাইভে বললেন, তিনি লজ্জিত। প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সির সঙ্গে টেনেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের তুলনা। ফেসবুক লাইভে এসে গতকাল রাতে মদন মিত্র বলেন, ‘সাংবাদিকরা আমাকে জিজ্ঞেস করেন, পৃথিবীতে আমার কাছে সবথেকে সুন্দর ও পবিত্র কে। আমি বলেছি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার পরের নাম বলি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তারপরেই আমার মুখ থেকে বেরিয়ে গেছে কেউ মোটা, কেউ গোটা, কেউ সোঁটা। দয়া করে আমি আমার সমস্ত নেতৃত্বের কাছে করজোরে ক্ষমা চাইছি। মদন মিত্র কেন মুখ দিয়ে বাজে ভাষা বের করবে! আমি লজ্জিত।’

এদিন ফেসবুক লাইভে এসে মদন মিত্র জানান যে, তাঁর বাড়ি থেকেও তাঁকে ‘ভর্ৎসনা’ করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘বাড়ি থেকে আমাকে বলেছে আমার রাজনীতি ছেড়ে দেওয়া উচিত।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *