আমাদের ভারত, ৮ ফেব্রুয়ারি: সহস্র বছর ধরে সামাজিক মর্যাদায় এগিয়ে তারা। শিক্ষার নিরিখে এগিয়ে তারা। এককালে ব্রাহ্মণের অর্থ ছিল ব্রহ্ম জ্ঞান অর্জনকারী। কিন্তু সময় বদলেছে, আর সংজ্ঞাও বদলেছে। উচ্চবর্ণের জাতি থেকে গণতান্ত্রিক পরিচয় পেয়ে ব্রাহ্মণ হয়েছে আর পাঁচজন নাগরিকের মতই। তাই উচ্চবর্ণ এখন অতীত। তাই তাদের বর্তমানও হয়েছে অসংরক্ষিত। সেই ব্রাহ্মণ জাতি কি এবার পেতে পারে সংখ্যালঘু তকমা?
তবে যেমন তেমন সংখ্যালঘু নয়, রাজনৈতিকভাবে সংখ্যালঘু তারা? এবার সেটাই খতিয়ে দেখবে দেশের শীর্ষ আদালত। পঞ্চায়েত এবং পুরসভার বিভিন্ন স্তরে ব্রাহ্মণ এবং উচ্চবর্ণদের প্রতিনিধিত্ব যে কমেছে তা দেখাই যায়।
এই অবস্থায় পঞ্চায়েত, পুরসভার রাজনৈতিক অনগ্রসর শ্রেণি কারা? তা বিবেচনা করে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশের প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ। সম্প্রতি ইউথ ফর ইকুয়ালিটি ফাউন্ডেশন নামে এক সংস্থা এই মামলা দায়ের করেছে। মহারাষ্ট্রের আঞ্চলিক নির্বাচনকে আধার করেই আদালতের কাছে তথ্য প্রদান করেছে তারা। সেই ভিত্তিতেই এই বিষয়টি খতিয়ে দেখতে চাইছে সুপ্রিম কোর্ট। অতীতে মহারাষ্ট্র পুরসভা এবং পঞ্চায়েত নির্বাচনের আসন সংরক্ষণ সংক্রান্ত মামলার একটি কমিটি গড়ে দিয়েছিল শীর্ষ আদালত।
অবসরপ্রাপ্ত আমলা জয়ন্ত কুমার বাতিস্তার নেতৃত্বে গঠিত ওই কমেটা ও বি সি সংরক্ষণ নিয়ে বেশ কিছু সুপারিশ করেছিল। যা গ্রহণ করেছিল দেশের শীর্ষ আদালত। এখন সেই কমিটির সুপারিশগুলিকে চ্যালেঞ্জ করে দায়ের হয়েছে মামলা। এ প্রসঙ্গে ২০১০ সালের একটি মামলার কথা তুলে ধরা হয়েছে। নতুন দায়ের করা মামলাতে, কৃষ্ণামতি বনাম কেন্দ্রীয় সরকারের মামলায় সুপ্রিম কোর্টের পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চ জানিয়েছিল সামাজিক এবং অর্থনৈতিকভাবে অনগ্রসর হওয়া মানেই রাজনৈতিকভাবে অনগ্রসর হওয়া নয়।
মামলাকারীদের যুক্তিও এক। কেউ ওবিসি তালিকাভুক্ত হওয়া মানেই তিনি রাজনৈতিকভাবে অনগ্রসর নন। এই অবস্থায় রাজনৈতিক অনগ্রসর শ্রেণি কারা তা খতিয়ে দেখতে নতুন কমিটি তৈরির আর্জি জানিয়েছেন মামলাকারীরা।
এই প্রসঙ্গে সম্প্রতি শীর্ষ আদালতের প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চকে এই মামলার দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছিল। বেঞ্চ জানায়, মহারাষ্ট্রের আঞ্চলিক নির্বাচন সংক্রান্ত বেশ কয়েকটি মামলা ইতিমধ্যেই বিচারাধীন। সে মামলাগুলির সঙ্গে এই মামলাটি জুড়ে দেওয়া হবে। এমনকি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে এই বিষয়ে নোটিশ পাঠিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।

