বাঁকুড়ার দুর্লভপুরে কালী পুজোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দিল্লি দখলের ডাক ঋতব্রতর

সোমনাথ বরাট, আমাদের ভারত, বাকুঁড়া, ৩ নভেম্বর: কালীপুজোর উদ্ধোধনী অনুষ্ঠানে মোদীকে হঠিয়ে দিল্লি দখলের ডাক দিলেন তৃণমূল নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার সন্ধেয় বাঁকুড়ার দুর্লভপুরে কালী পুজোর উদ্বোধনী মঞ্চে এই ডাক দেন। এই অনুষ্ঠানেই কার্যত পঞ্চায়েত নির্বাচনের দামামা বাজিয়ে দিলেন বাঁকুড়া জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতারা।

এদিন মেজিয়া শিল্পাঞ্চলের ডিভিসির মেজিয়া তাপবিদ্যুৎ প্রকল্প সংলগ্ন দুর্লভপুরে জেলা তৃণমূল শ্রমিক সংগঠনের ৫ম বর্ষ কালী পুজোর উদ্বোধন করতে আসেন আইএনটিটিইউসি’র রাজ্য সভাপতি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। সংগঠনের জেলা কার্যালয় দুর্লভপুর ‘শ্রমিক ভবন’ প্রাঙ্গণে মায়ের উদ্বোধনের পর মঞ্চ আলোকিত করে বসলেন একঝাঁক শীর্ষ নেতৃত্ব। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে এসেছিলেন ভারতীয় ফুটবল দলের খেলোয়াড় নইম নবী। জেলা নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দলের চেয়ারম্যান প্রাক্তন মন্ত্রী শ্যামল সাঁতরা, বাঁকুড়া সাংগঠনিক জেলার যুব সভাপতি সন্দীপ বাউরি, বড়জোড়ার বিধায়ক তথা বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি অলক মুখার্জি, ওন্দার প্রাক্তন বিধায়ক অরূপ খাঁ, শালতোড়ার প্রাক্তন বিধায়ক স্বপন বাউরি, দেবদাস বাজপাই, মানিক মন্ডল ও বাঁকুড়া জেলার বিশিষ্ট সমাজকর্মী গৌতম মিশ্র সহ অনেকে।

মঞ্চে ভাষণ দিতে গিয়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, মহিষাসুরমর্দিনী অসুর বধ করে শ্বশুরবাড়ি বাড়িতে ফিরে গেছেন। বাংলার অশুভ শক্তির বিনাশ করতে মা কালীর আরাধনা করছি আমরা। এবার ভারতবর্ষ থেকে মোদীষাসুর বধ করতে হবে। সারাদেশ ঐক্যবদ্ধ ভাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে মোদীষাসুর বধ করে বিকল্প সরকার গড়ার ডাক দিলেন। তিনি বলেন, ২০২৪ এ সেই নতুন সূর্য উঠবে ভারতবর্ষের আকাশে।

অন্যদিকে বাঁকুড়া জেলা তৃণমূল শ্রমিক সংগঠনের জেলা সভাপতি রথীন ব্যানার্জি বলেন, সামনে পঞ্চায়েত নির্বাচন। কালীপুজোর উদ্বোধনী মঞ্চেই আমরা তার প্রস্তুতিপর্ব সেরে নিলাম। দল এবার বিধানসভা নির্বাচনে ১২ টি আসনের মধ্যে ৮ টিতে পরাজিত হয়েছে। কেন হার হয়েছে তার পর্যালোচনাও করেছি আমরা। তাই আগামী পঞ্চায়েত নির্বাচনে জেলার ১৯০টি পঞ্চায়েতে ২২ টি পঞ্চায়েত সমিতিতে জয়ী হবে তৃণমূল।

বিধায়ক অলক মুখার্জি বলেন, শিল্পাঞ্চলের যেসব শ্রমিকরা ঠিকাদারদের শোষণের শিকার হচ্ছেন তাদের বিষয়ে রাজ্য সভাপতি অবিলম্বে সেই সব ঠিকাদার এবং কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করবেন। এদিন এলাকার শ্রমিকরাও রাজ্য সভাপতিকে তাদের সুবিধা অসুবিধার কথা জানিয়েছেন। ঋতব্রত বাবু বলেন, মেজিয়া-বড়জোড়া শিল্পাঞ্চলে শ্রমিকদের অনেক কিছু পাওনা গন্ডা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। এ বিষয়ে আমি শীঘ্রই আলোচনায় বসবো। এদিন প্রায় ১০০০ দুঃস্থ মানুষকে নতুন বস্ত্র প্রদান করা হয় উদ্যোক্তাদের পক্ষ থেকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *