স্নেহাশীষ মুখার্জি, নদিয়া, ৩০ সেপ্টেম্বর: চাকদহ পৌরসভার অবৈধ নির্মাণ দু’মাসের মধ্যে ভেঙ্গে ফেলার নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। চাকদহ পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ঘটনা।
প্রসঙ্গত, চাকদহ পৌরসভার আট নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলর দিবাকর চক্রবর্তী দীর্ঘদিন ধরে পুকুর ভরাট, জমি দখল, বেআইনি নির্মাণ নিয়ে লড়াই করছেন। তাঁর দাবি প্রশাসনিক বিভিন্ন জায়গায় তিনি দলের বিরুদ্ধে গিয়ে অভিযোগ জানিয়েছেন বলেই দলগতভাবে তার কাজে বাধা আসছে। এর মধ্যে চাকদহ স্বাস্থ্য দপ্তরের কর্মী বলরাম দাস তিন কাঠা জমির ওপর নির্মাণ শুরু করেন। সেই বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে বছর খানেক আগে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর দিবাকর চক্রবর্তী। তাঁরই অভিযোগের ভিত্তিতে কলকাতা হাইকোর্ট বৃহস্পতিবার নির্দেশ দেন দু’মাসের মধ্যে অবৈধ নির্মাণ ভেঙ্গে ফেলতে হবে। যদিও স্বাস্থ্য দপ্তরের কর্মী বলরাম দাসের দাবি, “পুরসভার অনুমতি নিয়েই আমি বাড়ি তৈরির কাজ শুরু করেছিলাম”।
অন্যদিকে দিবাকর চক্রবর্তীর অভিযোগ, পুরসভা এই নির্মাণটা অবৈধ জেনেও অনুমোদন দিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ কোনো জলা জমি বুজিয়ে নির্মাণ করে যাবে না। আমি শুধুমাত্র মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ পালন করেছি। আমি হাইকোর্টে অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে মামলা করি”। তিনি আরও জানান, “অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে মামলা করার ফলে পুরসভা ভোটে তাকে দল বিরোধী তকমা লাগিয়ে টিকিট দেওয়া হয়নি। দলের দিক থেকে তাকে নানা ভাবে কোন ঠাসা করার চেষ্টা করা হয় এবং পুরসভার কাজকর্মের বিরুদ্ধে যেহেতু উনি প্রশ্ন তুলেছেন, হাইকোর্টে গেছেন সেই কারণে তাকে পুর ভোটে টিকিট দেওয়া হয়নি। গতকাল কলকাতা হাইকোর্ট একটা অর্ডার দেয় নদিয়া জেলা শাসকের কাছে, যদিও তা জেলাশাসকের কাছে এসে এখনও পৌঁছায়নি। তাতে বলা হয়েছে দু’ মাসের মধ্যে ঐ অবৈধ নির্মাণটি ভেঙ্গে ফেলতে হবে”।

