আমাদের ভারত, জলপাইগুড়ি, ১২ আগস্ট: শিক্ষিকা শান্তা মণ্ডলের বদলি মামলায় সিবিআই তদন্তের ওপর শুক্রবার স্থগিতাদেশ দিল কলকাতা হাইকোর্টের জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চের ডিভিশন বেঞ্চ। আইন ভেঙে কী করে পাঁচ বছরের মধ্যে একজন শিক্ষিকাকে তিন বার বদলি করা হল উঠছে সেই প্রশ্ন।
এরপরেই এই মামলায় সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিলেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। কিন্তু, মামলাকারী কোথাও সিবিআই তদন্ত চায়নি বলে দাবি। পাল্টা এই প্রশ্ন তুলে সিবিআই তদন্তের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে মামলা করেন শিক্ষিকা শান্তা মণ্ডল। বৃহস্পতিবার কলকাতা হাইকোর্টের জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চে বিচারপতি রবি কিশান কাপুর এবং বিভাস পট্টনায়েকের ডিভিশন বেঞ্চে দিনভর শুনানি চলে।

প্রসঙ্গত, শিক্ষিকা শান্তা মণ্ডল ২০১৬ সালে শিলিগুড়ি শ্রীগুরু বিদ্যালয়ের সহ শিক্ষিকা হিসাবে কাজে যোগ দেন। এরপর ২০১৯ সালে তিনি প্রধান শিক্ষিকা পদের জন্য পরীক্ষা দেন। তিনি বীরপাড়া গার্লস স্কুলে বদলি হন। সেখানে চাকরিতে যোগও দেন। অভিযোগ, এক বছরের মধ্যেই শিলিগুড়ির অমিয় পাল চৌধুরী স্কুলে আবার যোগ দেওয়ার জন্য সুপারিশ পান। সেখানে যোগ না দিয়ে আবার দরখাস্ত করেন। শিলিগুড়ির শ্রীগুরু বিদ্যামন্দিরে প্রধান শিক্ষিকা হিসেবে যোগ দেন। এরপরই ওই স্কুলের সহকারি প্রধান শিক্ষক প্রসূন সুন্দর তরফদার কলকাতা হাইকোর্টে একটি মামলা দায়ের করেন। বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় মামলার নির্দেশ দিয়েছিলেন সিবিআই তদন্তের।
রাজ্যের পক্ষে আইনজীবী সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, ডিভিশন বেঞ্চ আমাদের আবেদন গ্রহণ করেছেন এবং পেপার বুক ফাইল করার নির্দেশ দিয়েছেন। বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের সিবিআই নির্দেশের ওপর সম্পূর্ণরূপে স্থগিতাদেশ দিয়েছেন ডিভিশন বেঞ্চ। রাজ্যের পক্ষ থেকে আমরা সিবিআই তদন্তের বিরোধিতা করেছিলাম, কেন না এই কেসে ক্রিমিনাল অফেন্সের কোনো বিষয় ছিল না। তাই বিচারপতি রবি কিষান কাপুর ও বিভাস পট্টনায়েকের ডিভিশন বেঞ্চ আজ ওই সিবিআই তদন্তের ওপর স্থগিতাদেশ দিলেন। এখন থেকে ডিভিশন বেঞ্চে উভয় পক্ষের আপিল ও হিয়ারিং হবে বলে জানান তিনি।”

