জয় লাহা, দুর্গাপুর, ১৪ জানুয়ারি: ‘২০২৪ সালের মধ্যে সিএএ লাগু হবে।’ শনিবার পানাগড় সেনাছাউনিতে প্রাক্তন সেনাকর্মী দিবসে এসে এমনই দাবি করলেন কেন্দ্রীয় জাহাজ প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর।
উল্লেখ্য, গত ২০১৯ সালে ১১ ডিসেম্বর নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন(সিএএ) পাশ হয়। ভারতবর্ষের পরম্পরা অনুসারে সিএএ তৈরী হয়েছে। পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে ধর্মীয় কারণে যারা অত্যাচারিত হয়ে বাস্তুহারা হয়েছে। কোথাও জায়গা পায়নি, তারা স্থান পাবে। ভারতবর্ষের স্বাধীনতার পর থেকে শরনার্থীরা প্রকৃত ভারতবাসী হতে পারেনি। সিএএ হওয়ার পর দ্বিজাতিতত্ত্বে দেশভাগের যন্ত্রনা থেকে মুক্তির স্বাদ পাবে বলে দাবি গেরুয়া শিবিরের। আর ওই সিএএ লাগু নিয়ে গোটা দেশের রাজনৈতিক ময়দান সরগরম। বিরোধীতায় পুরোদমে ময়দানে নেমেছে খোদ তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর তার পাল্টা আসরে নেমে জোরকদমে প্রচার জারি রেখেছে বিজেপি। রাজ্যজুড়ে সিএএ-র সারমর্ম বোঝাতে জনসম্পর্ক অভিযান করছে বিজেপি কর্মীরা। আইনের বিস্তারিত সহ তৈরী করা হয়েছে লিফলেট ও পুস্তিকা। সেসব নিয়ে ডোর-টু-ডোর প্রচার করছে।

যদিও সিএএ নিয়ে আগাগোড়া রাজ্যের মতুয়াদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ছিল। অতীতে সাংসদ তথা বর্তমান কেন্দ্রীয় জাহাজ প্রতিমন্ত্রী ২০২০ সালের জানুয়ারি মাসে দুর্গাপুরে এক কর্মসূচিতে এসে দাবি করেছিলেন, সিএএ মতুয়াদের দ্বিতীয় স্বাধীনতা। সিএএ আইন পাশের দিন পুজো করবে মতুয়ারা। যদিও তারপর গঙ্গা দিয়ে বহু জল বয়ে গেছে। শনিবার পানাগড় সেনাছাউনিতে প্রাক্তন সেনাকর্মী দিবসে যোগ দেন কেন্দ্রীয় জাহাজ প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর। এদিন সেনাছাউনির অমর শহিদ জওয়ানদের বেদীতে পুষ্পার্ঘ্য নিবেদন করেন। তারপর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর বলেন, “এধরনের অনুষ্ঠান সেনাদের মনবোল মজবুত করবে। দেশের যুবকদের সেনায় যোগদানে অনুপ্রানিত করবে।”
এদিন সাংবাদিকদের সিএএ প্রশ্নের জবাবে তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, “২০২৪-এর মধ্যে দেশে সিএএ লাগু হবে।”

