২০২৪-এর জানুয়ারির মধ্যে পানীয় জল পৌছে দিতে হবে নক্সালবাড়ির শেপদল্লা গ্রামে, নির্দেশ বিচারপতি অভিজিৎ গাঙ্গুলির

আমাদের ভারত, জলপাইগুড়ি, ৬ ডিসেম্বর: আগামী ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসের মধ্যে পানীয় জল পৌছে দিতে হবে নক্সালবাড়ি ব্লকের হাতি ঘিষা গ্রামপঞ্চায়েতের শেপদল্লা গ্রামে। পানীয় জলের মামলা নিয়ে আজ জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চে এমনই নির্দেশ দিলেন বিচারপতি অভিজিৎ গাঙ্গুলি। শুধু তাই নয়, গতকালের মতো আজও বিচারপতি অভিজিৎ গাঙ্গুলি নিজের চেয়ার ছেড়ে এজলাসে নিচের চেয়ারে বসে এই মামলার শুনানি করেন। এদিকে বিচারপতির নির্দেশের ফলে এবার পানীয় জল নিয়ে আশার আলো দেখছে শেপদল্লা গ্রামের বাসিন্দারা।

দার্জিলিং জেলার নক্সালবাড়ি ব্লকের হাতিঘিসা গ্রামপঞ্চায়েত শেপদল্লা জোতে পানীয় জলের সমস্যা। দীর্ঘদিন থেকেই বাসিন্দাদের স্থানীয় মাঞ্ঝা নদী এবং ঝোড়ার জলের ওপর নির্ভর করে চলতে হতো। এর পরে সরকারি উদ্যোগে পানীয় জলের ব্যবস্থা করা হলেও শেপদল্লা জোতে জল পৌছায়নি বলে অভিযোগ।
পানীয় জল নিয়ে ২০১৯ সাল থেকে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে চিঠি চাপাটির মাধ্যমে আবেদন নিবেদন করেও কোনো লাভ হয়নি। যে কারণে সেই মাঞ্ঝা নদীর ওপরেই জোতের আদিবাসী সম্প্রদায়কে নির্ভর করে থাকতে হচ্ছে। যে কারণে পানীয় জল নিয়ে চলতি বছর মে মাসে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন গ্রামবাসীরা।

মামলার শুনানি শুরু হয় বিচারপতি অভিজিৎ গাঙ্গুলির এজলাসে। পরপর তিন দিন এই মামলার শুনানি করেন বিচারপতি। ডেকে পাঠানো হয় ভুক্তভোগী গ্রামবাসী সহ পানীয় জলের কাজের সাথে যুক্ত সরকারি, বেসরকারি সমস্ত আধিকারিকদের। সব পক্ষের কথা শুনে বিচারপতি নির্দেশ দেন আগামী জানুয়ারি মাসের মধ্যে গ্রামে পানীয় জল পৌছে দিতে হবে। আদালতের অ্যাডিশনাল অ্যাডভোকেট জেনারেল জয়জিত চৌধুরী আদালতে বলেন, সরকার জল জীবন মিশনের মাধ্যমে গ্রামে পানীয় জল পৌছে দিতে কাজ করছে। সেই কাজ আগামী ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসের মধ্যে শেষ হবে এবং গ্রামের সমস্ত পরিবার পানীয় জল পাবে, এবং এই কাজ যেনো ঠিকমতো ও সরকারি নিয়ম মেনে হয় সেটা সরকার গুরুত্ব দিয়ে দেখবে।

অন্যদিকে গ্রামবাসীদের হয়ে মামলাকারী দিপু হালদার বলেন, বিচারপতির নির্দেশে তারা খুশি। তিনি বলেন, এদিও বিচারপতি নিজের জায়গা ছেড়ে নিচে এসে মামলার শুনানি করেন। অভিযোগকারীদের পক্ষের আইনজীবী সন্দীপ মন্ডল বলেন, আদালত সংক্ষিপ্ত রায় দিয়েছে। আদালত এখনই এই মামলা শেষ করতে চাইছে না। কারণ অভিযুক্তরা নিজেদের ভুল বুঝতে পারেছে। যে প্রজেক্টে কাজ হচ্ছে তা আগামী বছর জানুয়ারি মাসের মধ্যে শেষ করবে বলে কথা দিয়েছে। সে ক্ষেত্রেও আদালত নির্দেশ দিয়েছে, বলেছে কাজ করে এভিডেভিড করে রিপোর্ট জমা দেবার জন্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *