সুশান্ত ঘোষ, বনগাঁ, ১৪ ডিসেম্বর: “ফিরবে না আর তোদের বাবা। দুষ্কৃতীরা তাকে মেরে ফেলেছে।” চার ও আট বাছরের দুই ছেলে মেয়েকে সান্ত্বনা দিচ্ছেন ২৫ বছরের গৃহবধূ। সম্প্রতি ঠাকুরনগর বাজারে এক ব্যবসায়ীকে দোকান থেকে বের করে মারধর করে। সাত দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে সোমবার তাঁর মৃত্যু হয় কলকাতা আর জি কর হাসপাতালে।
পুলিশ জানিয়েছে মৃত ব্যবসায়ীর নাম পরিতোষ তালুকদার (৪২)। উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটা থানার শিমুলপুর বৈদ্যবাড়ি মোড় একালার বাসিন্দা। গতকাল রাতে দেহ ঠাকুরনগরের বাড়ি নিয়ে এলে ওই ব্যবসায়ীর স্ত্রী দুই শিশুকে নিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তাঁর দাবি, অভিযুক্তদের কঠোর শাস্তি হক। পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত চার জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে খবর, গত মঙ্গলবার রাতে নিজের পানের দোকানে বসে ব্যবসা করছিলেন পরিতোষ। অভিযোগ, রাত সাড়ে দশটা নাগাদ বেশ কয়েকজন দুষ্কৃতী তাঁর উপরে চড়াও হয়। দোকানের জিনিসপত্র লন্ডভণ্ড করে তাঁকে বেধড়ক মারধর করে। মাথায় গুরুতর আঘাত লেগেছিল তাঁর। প্রথমে তাকে চাঁদপাড়া গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় সেখান থেকে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাঁকে কলকাতায় আর জি কর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সাত দিন ধরে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ার পর সোমাবার তাঁর মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে ঠাকুরনগর এলাকার ব্যবসায়ীদের মধ্যে।
মৃত পরিতোষের স্ত্রী মল্লিকা তালুকদার বলেন, তাঁর স্বামীর সঙ্গে কারও কোনো শত্রুতা ছিল না। কি কারণে তাঁর উপরে হামলা চালানো হল তার কিছুই জানেন না তাঁরা। তবে যারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন তিনি।

ব্যবসায়ী পরিতোষের মৃত্যুতে প্রতিবাদে সরব হয়েছেন ঠাকুরনগর বাজার ব্যবসায়ী সমিতি। মঙ্গলবার সকালে বাজার ব্যবসায়ীর পক্ষ থেকে ঠাকুরনগর বাজারে একটি প্রতিবাদ মিছিল করা হয়। পাশাপাশি দুষ্কৃতীদের গ্রেফতার করে শাস্তি দাবিতে গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করা হয়। পুলিশ এই ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতারও করেছে। যদিও অভিযোগ ওই দিন প্রায় ১৫ জনের দল তার উপরে হামলা চালিয়েছিল। পুলিশ বাকিদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে। পুলিশের অনুমান পুরনো শত্রুতার জেরে তাঁকে মারধর করে খুন করা হয়েছে।

