অশোক সেনগুপ্ত
আমাদের ভারত, কলকাতা, ৯ জুলাই: ভাড়া না বাড়ানোর ক্ষেত্রে এবার শর্ত দিল বাস মালিকরা। সরকারের ভাড়া না বাড়ানোর প্রস্তাব তারা মেনে নিতে রাজি যাদি প্রত্যেকটি বাসের জন্য মালিকদের ২ লক্ষ টাকা করে ঋণ দেয়।
অর্ধেক যাত্রী নিয়ে পুরানো ভাড়ায় যে বাস চালানো সম্ভব নয় সেকথা বেসরকারি বাস মালিকদের সংগঠনের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে রাজ্য সরকারকে। তারপরেও ভাড়া না বাড়ানোর সিদ্ধান্তে অনড় রাজ্য সরকার। বরঞ্চ রাজ্যের পরিবহণমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম জানিয়ে দিয়েছেন, আগে বাস রাস্তায় নামাতে হবে তারপর সরকার ভাড়া বাড়ানোর বিষয়ে চিন্তাভাবনা করবে। কিন্তু সেই সূত্র মানতে নারাজ বেশিরভাগ বাস মালিক। তাই এবার বাস মালিকদের সংগঠনের তরফে রাজ্য সরকারের কাছে পাল্টা দাবি পেশ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হল।
শুক্রবার এক সাংবাদিক বৈঠকে বেসরকারি বাস মালিকদের সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়, ভাড়া বৃদ্ধি না হলে বাস চালানো সম্ভব নয়, সেক্ষেত্রে ঋণ দিয়ে সাহায্য করুক সরকার। ৫০ শতাংশ যাত্রী নিয়ে পুরনো ভাড়ায় বাস চালানো সম্ভব নয়। একটি যুক্তিযুক্ত ভাড়া নির্ধারণ করা খুবই প্রয়োজন। একইসঙ্গে বাস মালিকদের স্বল্প সুদে ঋণ দেওয়ারও ব্যবস্থা করুক রাজ্য সরকার। গোটা বিষয়টি বিবেচনা করে রাজ্য সরকার দ্রুত সিদ্ধান্ত নিক সেই অনুরোধ করেছেন তাঁরা।
এদিন বিকেলেই এই দাবি নিয়ে নবান্নে চিঠি পাঠানো হয়। তবে এই দাবি রাজ্য সরকার মানবে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। কেননা বাস মালিকদের দাবি মেনে ২ লক্ষ টাকা করে বাস পিছু ঋণ দেওয়া রাজ্যের পক্ষে সম্ভব নাও হতে পারে। এই বিষয়ে জয়েন্ট কাউন্সিল অফ বাস সিন্ডিকেটের তপন বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, ‘ভাড়া বৃদ্ধি নিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত জানাক রাজ্য। আমরা ভর্তুকি চাই না। স্বল্প সুদে ঋণ দেওয়া হোক বাস মালিকদের। ২৩টি সমবায় ব্যাঙ্ক থেকে এই ঋণ দেওয়া হোক। এতে বাস মালিকরা উৎসাহ পাবেন। সীমিত সময়ে অল্প সংখ্যক যাত্রী নিয়ে বাস চালাতে হচ্ছে। ফলে ভাড়ার বিষয়টি বিবেচনা করুক রাজ্য। আমরাও চাই বাস মিনিবাস রাস্তায় নামুক। গাড়ি তো আর জলে চলে না। পেট্রল-ডিজেলের এই মূল্যবৃদ্ধির জেরে গাড়ি বের করা অসম্ভব হয়ে পড়ছে। এই মুহূর্তে ভাড়া নিয়ে ইতিবাচক পদক্ষেপ না হলে বাস চালানো সম্ভব হবে না।’
বাস ভাড়া বাড়ছে না বলে সম্প্রতি জানিয়েছিল নবান্ন। তাতে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরলেও এই সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ বাস মালিক সংগঠনগুলি। পরিবহণ মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের সঙ্গে বৈঠকে বসেন বাস-মিনিবাস সংগঠনের সদস্যরা। বৈঠকে তার সমস্ত সুবিধা-অসুবিধার কথা তুলে ধরা হয়। এরপরই ফিরহাদ হাকিম নবান্নে দেখা করেন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে। তার পরও জানা যায়, এই মুহূর্তে ভাড়া বাড়ছে না। পালটা সাংবাদিক বৈঠক করে সংগঠনগুলির তরফে জানা হয়, পেট্রল-ডিজেলের ভাড়া যেভাবে বাড়ছে, তাতে বাস চালাতে অপারগ তাঁরা।
যদিও রাস্তায় নামা নিত্যযাত্রীদের একাংশ জানাচ্ছেন, রাস্তায় যেটুকু এখন বাস চলছে সেখানে পুরাতন ভাড়া কার্যত কোথাও নেওয়া হচ্ছে না। বাসে পা রাখলেই নূন্যতম ১০ টাকা ভাড়া দিতে হচ্ছে। কোথাও কোথাও তা ১৫ ও ২০টাকা করেও নেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও ইচ্ছামতন ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। যাত্রীরা প্রতিবাদ করলেই ভুয়ো ভাড়ার তালিকা দাখিল করা হচ্ছে বা তাঁদের বাস থেকে নেমে যেতে বলা হচ্ছে। দেখা যাচ্ছে লকডাউনের আগে যে ভাড়া ১৫টাকা ছিল এখন সেটাই ৩০টাকা নেওয়া হচ্ছে।

