আমাদের ভারত, ৯ মার্চ: রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় এলে দুর্নীতি ও দুর্বৃত্ত দমনে উত্তর প্রদেশের মতো বুলডোজার নীতি কার্যকর হবে। পূর্ব বর্ধমানের বিভিন্ন এলাকায় বিজেপির পরিবর্তন যাত্রা পৌঁছেছে। সেখানেই একটি সভা থেকে এই মন্তব্য করেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা সুকান্ত মজুমদার।
পদ্ম শিবিরের পরিবর্তন যাত্রায় কাটোয়ার সভায় এস আই আর- এ নাম বাদ যাওয়ার প্রসঙ্গে সুকান্ত মজুমদার বলেন, বিজেপি হোক বা তৃণমূল, যে কোনো মানুষের নাম থাকতে পারে বিচারাধীন তালিকায়। সবাইকে ফর্ম পূরণ করে জমা দিতে হবে। যারা হিন্দু উদ্বাস্তু আছেন তাদের সিএএ’তে আবেদন করতে হবে। সিএএ থেকে ইতিমধ্যে আমার নিজের লোকসভার একটি অঞ্চলে একসঙ্গে ৭৬ জন নাগরিকত্ব পেয়েছেন। ৯০ হাজার সিএএ’র আবেদন জমা পড়েছে। আমার বিশ্বাস এর নব্বই শতাংশ লোক সঠিক তথ্য জমা করেছেন। তারা প্রত্যেকেই সিএএ’র মাধ্যমে নাগরিকত্ব পাচ্ছেন।
অন্যদিকে পূর্বস্থলীর উত্তর বিধানসভা এলাকার সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে সুকান্ত মজুমদার বলেন, তিনি ছয় বছরের বেশি সাংসদ। এক বছরের বেশি মন্ত্রী থাকলেও তার বিরুদ্ধে কেউ কোনো অভিযোগ তুলতে পারেননি। তৃণমূল আজ পর্যন্ত একটাও দুর্নীতির অভিযোগ কিন্তু আমার বিরুদ্ধে তুলতে পারেনি, কারণ আমরা নরেন্দ্র মোদীর ভক্ত। না খায়েঙ্গে না খানে দেঙ্গে। এই নীতিতে বিশ্বাসী।
এরপর তিনি বলেন, এখানে তৃণমূলের কিছু গুন্ডা দাদাগিরি করে বলে শুনেছি। এখনো সময় আছে, না হলে উল্টো করে টাঙিয়ে সোজা করার ব্যবস্থা আমরা করব।
দলীয় কর্মীদের উদ্দেশ্যে তাঁর বার্তা, বাংলায় বিজেপি ক্ষমতায় এলে উত্তরপ্রদেশের মতো বুলডোজার নীতি চালু হবে। তখন শুধু অপরাধীকেই গ্রেফতার করবে না, তার বাড়ি বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে। তৃণমূল বিধায়ক স্বপন দেবনাথকে আক্রমণ শানিয়ে তাঁর মন্তব্য, “এই বিধায়কের সম্পদ সম্বন্ধে যত কম বলব ততই ভালো। এবার আপনাকে বিদায় নিতে হবে। তৃণমূল টিকিট দেবে কিনা জানি না। যদি দেয়ও গ্যারান্টি দিয়ে গেলাম, বিজেপি বলে বলে দশ গোল দেবে।
কালনা শহরের সভায় তিনি বলেন, ব্রিগেডের সভায় ৫ লাখের বেশি লোক হবে। ওই সভায় প্রধানমন্ত্রী প্রধান বক্তা। একই সঙ্গে তিনি আশ্বস্ত করেন, যেসব উদ্বাস্তুর নাম কাটা গিয়েছে তাদের চিন্তার কারণ নেই। সব নাম জোড়া হবে। সিএএ’র মাধ্যমে নাগরিকত্ব দেওয়া হবে। তবে যারা অনুপ্রবেশকারী তাদের এখানে কোনো ঠাঁই নেই।
একই সঙ্গে তিনি দলবদল প্রসঙ্গে বলেন, পচা আলু বিজেপিতে ঢুকতে দেব না। যারা আসবেন তাদের নাকক্ষত দিয়ে আসতে হবে। দুর্নীতির টাকা ফেরত দিয়ে শুদ্ধিকরণ করে আসতে হবে।

