আশিস মণ্ডল, রামপুরহাট, ৫ আগস্ট: গায়ক কিশোর কুমারের গানকে সম্বল করে অন্ধত্বকে “জয়” করেছেন বীরভূমের মল্লারপুরের দেবোপম সিনহা ওরফে বুবুল। বর্তমানে তাঁর বয়স প্রায় ৪৫ বছর। বীরভূমের মল্লারপুর থানার ফতেপুর গ্রামের বাসিন্দা।
ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মাত্র ১৭ দিন বয়সে দৃষ্টিশক্তি হারান তিনি। বহু চিকিৎসা করিয়েও দৃষ্টি ফেরেনি তার। ব্রেইল পদ্ধতি অবলম্বন করে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন। ১৯৮৮ সাল থেকে গান শেখা শুরু। মাত্র পাঁচ বছরেই রপ্ত করে ফেলেন গানের সুর ও তাল। ১৯৯৩ সাল থেকে সঙ্গীত শিল্পী হিসেবে গান গাওয়া শুরু তার। গানের জগতে সব কিছুকে সরিয়ে তিনি বেছে নেন কিশোর কুমারকে। কিশোর কুমারের গাওয়া গানই তার ধ্যান ও জ্ঞান। দৃষ্টি না থাকায় টেপ রেকর্ডারে শুনে শুনে গানের কলি মুখস্ত করেছেন তিনি। প্রথম প্রথম গ্রামের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সঙ্গীত পরিবেশন করতেন। সেই সময় সোশ্যাল মাধ্যম না থাকলেও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তার গাওয়া গান গ্রাম ছাড়িয়ে জেলা, জেলা ছাড়িয়ে রাজ্যে ছড়িয়ে পড়ে। বলিউডের মেগাস্টার মিঠুন চক্রবর্তীর সঙ্গে এক মঞ্চে গান গেয়েছেন বুবুল সিনহা।

কিশোর কুমারকে স্মরণ করে ২০২১ সালে ৪ আগস্ট ‘কিশোর সঙ্গীতায়ন’ নামে একটি সঙ্গীতের স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানে তার ছাত্র – ছাত্রীর সংখ্যা প্রায় ৩০ জন। ফলে ৪ আগস্ট মহান সঙ্গীত শিল্পী কিশোর কুমারের জন্মজয়ন্তীকে তিনি ভুলতে পারেননি। তাই প্রতিবছর কিশোর কুমারের জন্মজয়ন্তীতে সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার আয়োজন করে থাকেন বুবুল সিনহা। শুক্রবার তাঁর সেই অনুষ্ঠানে গান শুনতে হাজির ছিলেন এলাকার বিভিন্ন সংস্কৃতিক প্রেমী মানুষজন। ময়ূরেশ্বরের সার্কেল ইন্সপেক্টর স্বর্গজিত বোস সহ মল্লারপুর থানার বহু পুলিশ আধিকারিক এবং গুনিজনেরা। শুধু বুবুল সিনহার গান শোনা নয়, নিজেও কিশোর কণ্ঠে গাইলেন স্বর্গজিতবাবু। সঙ্গীত চর্চায় বুবুলকে সাহায্য করে তার ছেলেও। বাবার গানের অনুষ্ঠানে গিটার বাজায় সে। শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে গান নিয়েই চলে তার রোজগার। বর্তমানে জেলার বিভিন্ন সঙ্গীত ট্রুপের কাছ থেকে বুবুলের কাছে বরাত আসে গান গাওয়ার। অনুষ্ঠানে গান গাওয়ার পাশাপাশি গানের স্কুল চালিয়ে সংসার চলে তার। তবে বুবুল সিনহার সাফল্যে এগিয়ে এসেছেন এলাকার বাসিন্দারা। প্রতিবছর কিশোর কুমারের জন্মজয়ন্তী অনুষ্ঠান পালন করতে সবরকমের সহযোগিতা করেন মল্লারপুর সুহৃদ সঙ্ঘ ক্লাবের সদস্য ও মল্লারপুরের মানুষ।
প্রতিবেশী প্রধান চন্দ্র দাস জানান, দৃষ্টি না থাকার কারণে একসময় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিল বুবুল। তার কণ্ঠে গান শুনে আমরা বুঝতে পারি বুবুল একদিন গান গেয়েই জীবনে প্রতিষ্ঠিত হবে। এখন সে প্রতিষ্ঠিত। তাতেই আমরা খুশি”।

