আমাদের ভারত, ১৬ নভেম্বর: মঙ্গলবার বিধানসভায় বিএসএফের আচরণের বর্ণনা দিতে গিয়ে মারাত্মক অভিযোগ করেছেন তৃণমূল বিধায়ক উদয়ন গুহ। বিএসএফের বিরুদ্ধে মহিলাদের সঙ্গে অভব্য আচরণের অভিযোগ করেছেন তিনি। উদয়ন গুহর এই মন্তব্যের কয়েক ঘন্টার মধ্যেই পাল্টা জবাব দিল বিএসএফ। তাদের স্পষ্ট জবাব, তৃণমূল বিধায়কের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
সীমান্তরক্ষী বাহিনী তরফ থেকে মঙ্গলবার একটি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, যে তৃণমূল বিধায়কের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।” সেখানে আরও বলা হয়েছে, বিএসএফ একটি পেশাদার বাহিনী। সর্বদা নিয়ম বিধি মেনে তারা কর্তব্য পালন করে। বিএসএফের আধিকারিকের কথায়, বিএসএফের মহিলা প্রহরীরাই মহিলাদের তল্লাশি চালায়। ফলে কোনো মহিলাকে অশ্লীলভাবে স্পর্শ করার অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তিনি আরও বলেন, আমরা কখনও অপেশাদার কাজ করি না। আমরা আইন-শৃঙ্খলা কঠোরভাবে মেনে চলি। সাধারণ মানুষ বিশেষত মহিলাদের ক্ষেত্রে আমরা সবসময় মহিলা জাওয়ানদের উপস্থিতি নিশ্চিত করি।
বিএসএফের ক্ষমতা বৃদ্ধি ইস্যুতে বিধানসভায় শাসক ও বিরোধীদের মধ্যে তুমুল তরজা চলে। সেই সময় তৃণমূল বিধায়ক উদয়ন গুহ বলেন, “তল্লাশির নামে সন্তানের সামনে মায়ের গোপন অঙ্গে হাত দিয়ে তল্লাশি চালাচ্ছে বিএসএফ, ছেলের সামনে বাবাকে কান ধরাচ্ছে।” তার কথায় এই রকম করলে কোনো সন্তান দেশভক্ত হতে পারে না, যতই ভারত মাতা কি জয় বলা হোক না কেন।
উদয়ন গুহর এই মন্তব্যে বিধানসভায় ব্যাপক চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু হয়ে যায়। মন্তব্যের বিরোধিতা শুধু বিজেপি বিধায়করাই করেছেন তা নয় স্পিকারও এর বিরোধিতা করেছেন। তিনি দুই পক্ষকেই সংযত হওয়ার কথা বলেন।
তৃণমূল বিধায়ক আরও বলেন, ১০ টি জেলার ৬৫ টি ব্লক বিএসএফের অধীনে রয়েছে। ওদের অত্যাচার যে দেখেনি সে জানে না। সাতটি জেলা শহরকে বিএসএফের অধীনে নিয়ে আসার চক্রান্ত চলছে। এখানে সাম্রাজ্যবাদের দালালদের ও সাম্প্রদায়িক শক্তির প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চলছে। বাংলার ক্ষেত্রে ১৫ কিলোমিটারকে বাড়িয়ে ৫০ কিলোমিটার করা হচ্ছে। নিজেদের শাসন যেখানে আছে সেখানে এলাকা কমানো হচ্ছে।
বিএসএফের একটি এলাকা বৃদ্ধি বিরোধিতা করে রাজ্য সরকার আজ একটি প্রস্তাব আনে। ভোটাভুটিতে বিধানসভায় সেই প্রস্তাব পাস হয়ে যায়। প্রস্তাবের পক্ষে ভোট পড়েছে ১১২ টি বিপক্ষে ভোট পড়েছে ৬৩টি। তৃণমূল সরকারের অভিযোগ বিএসএফের এক্তিয়ার বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত আসলে যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর উপরে আঘাত।

