আমাদের ভারত, ১২ আগস্ট: যাদবপুর কাণ্ডে মন্তব্য করলেন চিকিৎসক-লেখিকা তসলিমা নাসরিন। তাঁর মতে, “শ্রদ্ধাবোধ নেই বলেই র্যাগিংয়ের নামে নৃশংস উল্লাস চলে।”
শনিবার তিনি সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, “কলকাতার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে এসে স্বপ্নদীপ কুণ্ডুকে র্যাগিংয়ের শিকার হয়ে মরতে হলো। র্যাগিং জিনিসটা মূলত পরিচয়পর্ব, কিন্তু এই পরিচয়পর্বটি কোনও কোনও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভয়াবহ হয়ে উঠেছে।
সিনিয়র ছাত্ররা নতুন ভর্তি হওয়া ছাত্রদের নানাভাবে অপমান আর অপদস্থ করে। শারীরিক এবং মানসিক নির্যাতনও করে। ইন্ট্রোর নামে একটা অশ্লীল ইভেন্টও আজকাল চলছে, ওতে নিজের পুরুষাঙ্গের আকার আকৃতি ঘোষণা করতে হবে, এবং কবে মা বাবার যৌনমিলনের ফলে ছাত্রটির জন্ম হয়েছে, সেই তারিখটা সবাইকে জানাতে হবে, মঞ্চে উঠে উরুসন্ধিতে পুরুষাঙ্গের আকৃতির বেলুন সেঁটে দাঁড়াতে হবে এবং অশ্লীল নাচ নাচতে হবে। এই ইন্ট্রোর ভয়ে অনেক ছাত্রই সিঁটিয়ে থাকে, কেউ কেউ পালায়।”
স্বপ্নদীপের নিজের এবং পরিবারের স্বপ্ন পূরণ করা হলো না। তসলিমা লিখেছেন, “আসলে র্যাগিং এই সমাজের প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে। সমাজে বড় টাকাপয়সাওয়ালা লোকেরা, বড় জাতের লোকেরা, বড় শ্রেণির লোকেরা, বড় প্রভাবশালী লোকেরা যেমন কম টাকাপয়সাওয়ালা লোকদের, ছোট জাতের লোকদের, নিম্ন শ্রেণির লোকেদের, প্রভাবশালী নয় এমন লোকদের অত্যাচার করে, তাদের ল্যাং মেরে হোঁচট খাওয়ায়, প্রতারণা করে নিঃস্ব বানায়, তাদের সঙ্গে মজা করে, মজা দেখে, এ তেমনই।
মানুষের প্রতি মানুষের শ্রদ্ধাবোধ সমাজে নেই, বিশ্ববিদ্যালয়ে কী করে থাকবে? শ্রদ্ধাবোধ নেই বলেই র্যাগিংয়েরর নামে নৃশংস উল্লাস চলে।

