আত্মঘাতী ভাই, খবর শুনে ট্রেনের সামনে ঝাঁপ বড় দাদার, শ্যামনগরে শোকের ছায়া

আমাদের ভারত, ব্যারাকপুর, ২ মার্চ: ভাইয়ের আত্মহত্যার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ভাইয়ের শোকে প্রাণ দিল বড় দাদা। এই ঘটনা ঘটেছে উত্তর ২৪ পরগনার জগদ্দল থানার অন্তর্গত শ্যামনগর গুরদহ এলাকায়। সোমবার রাতে গুরদহ লিচু তলা এলাকার একটি পুকুর থেকে শিবম রায় (১৯) নামে ছোট ভাইয়ের মৃতদেহ উদ্ধার হয়। রাতে বড় দাদা দীপাঞ্জয় রায় সেই খবর শুনে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। কিছুক্ষন পরে বাড়িতে খবর আসে বড় দাদা দীপাঞ্জয় রায়ের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে শ্যামনগর ২৫ নম্বর রেলগেটের পাশ থেকে। জানা গেছে, সেও ট্রেনের সামনে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। শ্যামনগর গুরদহে একই পরিবারের ২ ভাইয়ের পরপর অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

জানা গেছে, গত শুক্রবার মা শম্পা রায়ের সঙ্গে দুপুরে ভাত খেতে বসেছিল দুই ভাই দীপাঞ্জয় ও শিবম। সেই সময় শিবম ভাত নষ্ট করলে বড় দা দীপাঞ্জয় ভাইকে কটু কথায় শাসন করে। তারপর ভাতের থালা রেখে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায় শিবম। ২ দিন নিখোঁজ থাকার পর সোমবার তার মৃতদেহ পাড়ারই পুকুরে ভেসে ওঠে। জগদ্দল থানার পুলিশ সোমবার রাতে সেই মৃতদেহ উদ্ধার করে। এই খবর জানতে পেরে রাতেই বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায় বড় দাদা দীপাঞ্জয়। শ্যামনগর ২৫ নম্বর রেল গেটের সামনে সে ট্রেনের সামনে ঝাঁপ দিয়ে আত্মঘাতী হয়। তার দেহ উদ্ধার করেছে নৈহাটি জি আর পি।

মৃতের কাকিমা ডলি রায় বলেন, “ওদের বাবা দুই বছর আগে মারা যায়। মা শম্পা লোকের বাড়ি কাজ করে সংসার চালাত। বড় ভাই দীপাঞ্জয় ছোট খাট কাজ করত, মাকে সাহায্য করত। গত শুক্রবার খেতে বসে ছোট ভাই খাবার নষ্ট করায় দাদা বকাবকি করে ছোট ভাইকে। তারপর ছোট ভাই বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়ে যায়, পরে তার মৃতদেহ উদ্ধার হয়। এই শুনে দাদাও ট্রেনের সামনে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করে। ওরা দুই ভাই চলে গেল, বাবাও নেই। কেউ মায়ের জীবনের কথা ভাবল না। ছোট ভাইকে দীপাঞ্জয় বকাবকি করেছিল, সেই জন্য ও নিজেকে ক্ষমা করতে পারেনি।” গোটা ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে শ্যামনগর গুরদহ লিচু তলা এলাকায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *