পিন্টু কুন্ডু, বালুরঘাট, ৯ জুলাই: প্রেমিকার ঘনিষ্ঠ মুহহূর্তের ভিডিও সোশ্যাল সাইটে ভাইরাল করার হুমকি প্রেমিকের। ভয়ে ও লোকলজ্জায় গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মঘাতী হল এক যুবতী। শুক্রবার দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার পতিরাম থানার কামালপুর এলাকার এমন ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, মৃত ওই যুবতীর নাম শিল্পী দাস (২০)। বৃহস্পতিবার রাতে নিজের শোবার ঘরে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মঘাতী হয় ওই যুবতী। রাতেই বিষয়টি নজরে আসে পরিবারের লোকেদের। খবর পেয়ে এলাকায় পৌঁছে ঘটনার তদন্তে নেমেছে পতিরাম থানার পুলিশ। এদিকে মৃতের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযুক্ত যুবকের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ দায়ের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে। যদিও ঘটনার পর থেকেই পলাতক অভিযুক্ত যুবক তোতা মহন্ত।
পুলিশ ও স্থানীয় সুত্রের খবর, প্রায় বছর দুয়েক আগে পতিরাম থানার অন্তর্গত কামালপুরের শিল্পীর সাথে হিলির ত্রিমোহনীর লালপুরের বাসিন্দা তোতা মহন্তের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এখানেই শেষ নয়, দু’জনের মধ্যে গড়ে ওঠে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্কও বলে অভিযোগ। যার পরিপ্রেক্ষিতে উভয়ের পরিবার তাদের বিয়েও একপ্রকার ঠিক করে ফেলে। পাঁচ দিন আগে ছেলের বাড়ির লোকজন মেয়ের বাড়িতে গিয়ে বিয়ের কথাবার্তাও বলে আসে বলে অভিযোগ। যা জানতে পেরেই বৃহস্পতিবার রাতে অভিযুক্ত যুবক তোতা ওই যুবতীকে ফোন করে বিয়েতে অসম্মতির কথা জানায়। যারপরেই শুরু হয় উভয়ের মধ্যে বচসা। আর তখনই হিলির বাসিন্দা তথা ওই অভিযুক্ত যুবক তাদের নিজেদের অন্তরঙ্গ মুহুর্তের ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল করার হুমকি দেয় বলে অভিযোগ। এরপরেই ফোন কেটে দিয়ে কিছুটা আত্মসম্মান ও লোকলজ্জার কথা ভেবে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মঘাতী হয় ওই যুবতী।
মৃতার আত্মীয় জুয়েল সরকার জানিয়েছেন, পুলিশ অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করুক।
কাকা স্বপন দাস বলেন, এমন ঘটনা আর যাতে কাউকে দেখতে না হয়। প্রেমের অভিনয় করে নিষ্পাপ মেয়েটার জীবন কেড়ে নিয়েছে ওই অভিযুক্ত যুবক। পুলিশ অভিযুক্তের ফাঁসির ব্যবস্থা করুক।
পতিরাম থানার পুলিশ জানিয়েছে, পরিবারের তরফে লিখিত অভিযোগ পেয়েই ঘটনার তদন্ত শুরু করা হয়েছে। অভিযুক্ত যুবক পলাতক।

