বনগাঁ ব্লক পঞ্চায়েত সমিতির-সহ সভাপতির মদতে পঞ্চায়েত সমিতির প্রাক্তন সভাপতিকে কোপ, প্রকাশ্যে তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব

সুশান্ত ঘোষ, আমাদের ভারত, উত্তর ২৪ পরগণা, ২১ সেপ্টেম্বর: পঞ্চায়েত সমিতির প্রাক্তন সভাপতিকে কোপানোর অভিযোগ উঠল বর্তমান পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি ও তাঁর দলবলের বিরুদ্ধে। জমি নিয়ে বিবাদের জেরে ফের প্রকাশ্যে তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব। বুধবার বিকেলে ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ ব্লকের গঙ্গানন্দপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের পাঁচবেড়িয়া এলাকায়৷ অভিযোগ অস্বীকার করছে অভিযুক্তরা। তারা পুরো বিষয়টি দলকে জানিয়েছে বলেও খবর।

স্থানীয় সূত্রের খবর, আহত প্রাক্তন সভাপতির নাম অনিমা মণ্ডল৷ তিনি বর্তমানে বনগাঁ মহকুমা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। পরিবারের পক্ষ থেকে থানাতে অভিযোগ করা হয়েছে তৃণমূলের বনগাঁ ব্লক পঞ্চায়েত সমিতির-সহ সভাপতির জাফর আলি মণ্ডল, অজিত সরকার, ভাস্কর সরকার, রাহুল সরকার-সহ একাধিক জনের বিরুদ্ধে। মারধরের ঘটনায় উভয়পক্ষের চারজন জখম হয়৷ বনগাঁ মহকুমা হাসপাতালে তারা চিকিৎসাধীন। পুলিশ ভবেশ সরকার নামে একজনকে গ্রেপ্তার করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে৷

অভিযোগ অস্বীকার করে জাফর আলি মণ্ডল বলেন, “গতকাল আমি ছিলামই না। ভিত্তিহীন অভিযোগ করছে। উনি এবার টিকিট পাননি বলে এমন অভিযোগ করছে। দলকে পুরো বিষয়টি জানিয়েছি।”

পালটা অনিমাদেবী বলেন, “আমাকে আগে জাফর হারিয়েছিল। এবার তৃণমূলে যে দাঁড়িয়েছেন সে হেরেছেন। সেখানে আমাদের কোনও বিষয় নেই। কিন্তু সেই হারার আক্রোশে জমিজমা নিয়ে গন্ডগোল বাধিয়ে জাফরের নেতৃত্বে তার লোকজন গিয়ে আমাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মেরেছে৷ আমি দলের নেতৃত্বকে জানিয়েছি৷

অনিমা দেবীর ছেলে রাজীব মণ্ডল জানান, প্রতিবেশী সরকার পরিবারের সঙ্গে দীর্ঘদিন একটি জমি নিয়ে সমস্যা ছিল। দীর্ঘদিন আগে সেখানে সিমেন্টের খুঁটি পোতা রয়েছে। এদিন হঠাৎ সরকার পরিবারের লোকজন সেই খুঁটি তুলতে এলে তাদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়৷ অভিযোগ, এর পরেই জাফরের লোকজন স্ত্রী পিংকি মণ্ডলকে টেনে নিয়ে যায়। অনিমাদেবী-সহ পরিবারের অন্যরা প্রতিবাদ করতেই তাদের মারধর করা হয়৷ ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানোর চেষ্টা করা হয়৷ পিংকিদেবী এই ঘটনায় জখম হয়েছেন৷

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *