নিজস্ব প্রতিনিধি, ব্যারাকপুর, ৩০ মার্চ:
এবার হালিশহরে উপ পৌরপ্রধানের বাড়ির সামনে বোমাবাজি দুষ্কৃতীদের, ঘটনাস্থলে বীজপুর থানার পুলিশ। অভিযোগ, তোলাবাজির বিরোধিতা করায় এই হামলা।
হালিশহরের পৌরসভার উপ পৌরপ্রধান শুভঙ্কর ঘোষ এর বাড়ির সামনে বোমাবাজির ঘটনায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে ১০ নম্বর ওয়ার্ডের খাসবাটি এলাকায়। অভিযোগ, আজ ভোর রাতে এক দল দুষ্কৃতী আসে এবং উপ পৌরপ্রধান শুভঙ্কর ঘোষের বাড়ির সামনে বোমা মারে।
কি কারণে এই বোমাবাজি তার তদন্ত করছে বীজপুর থানার পুলিশ, এলাকায় আতঙ্ক। তবে এই গোটা ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে শুভঙ্করবাবু অভিযোগ করেন যে তিনি বারবার এলাকার দুষ্কৃতীদের তোলাবাজি করার বিরোধিতা করে এসেছেন। তাই এই হামলা।

এদিন সাংবাদিকদেরকে ভাইস চেয়ারম্যান শুভংকর ঘোষের বলেন, “ভোর চারটের সময় আমার বাড়িতে একটা তাজা বোমা ছুঁড়ে দুষ্কৃতিরা পালিয়ে যায়। আমরা বাইরে এসে দেখি চারিদিকে ধোঁয়া। দুষ্কৃতিদের ছোঁড়া বোমায় প্রতিবেশীদের দু’একজনের অনেকটাই ক্ষতি হয়। “তিনি জানান, তোলবাজি তিনি কোনও মতেই এলাকায় করতে দেবেন না। তোলাবাজির প্রতিবাদ করাতেই হামলা চালানো হয়েছে। হুঁশিয়ারীর সুরে তিনি বলেন, “আমাকে চমকে ধমকে কোনও লাভ হবে না। তোলাবাজি আমি রুখে দেবো। আর এই কাজে আমার সাথে আমার এলাকার বাসিন্দারা আছেন। আমি ভোটের সময় প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম তোলাবাজি বন্ধ করে দেব, যাতে ব্যবসায়ীরা শান্তিতে কাজ করতে পারে। আর সেই কথা অনুযায়ী আমি কাজ করছি।”
স্থানীয় সূত্রের জানা যায়, এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে তোলা চেয়েছিলো স্থানীয় দুষ্কৃতী অমিতের দলবল। তার প্রতিবাদ করেছিলেন হালিশহরের ভাইস চেয়ারম্যান শুভংকর ঘোষ। আর তার জেরেই এই বোমাবাজির ঘটনা হয়ে থাকতে পারে। তবে ক্ষমতায় থাকা সত্বেও একজন উপ পৌরপ্রধানের বাড়ির সামনে যদি এই ভাবে বোমা মারে তাহলে সাধারন বাসিন্দারা কি ভাবে শান্তিতে থাকতে পারবেন। এই কারনে আতঙ্কিত এলাকাবাসী।
এই ঘটনা জানতে পেরই এলাকায় যান পাশের পুরসভা কাঁচারপাড়ার পৌর প্রধান কমল অধিকারী। তিনি এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “শুভঙ্কর খুব ভালো ছেলে। তৃণমূল করার পাশাপাশি সমাজ সেবা কাজের সাথে যুক্ত। দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে সর্বদা প্রতিবাদ করে। ওর বাড়ির সামনে এই ধরনের দুষ্কৃতী হামলার ঘটনা যারা ঘটিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে পুলিশ আইনী ব্যবস্থা নেবে।” ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে বীজপুর থানার পুলিশ।

