বনগাঁয় বোমা বিস্ফোরণ, সন্তান হারা হল মা, মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি সুকান্তর

সুশান্ত ঘোষ, বনগাঁ, ৫ জুন: শৌচালয়ে বোমা ফেটে মৃত্যু হল এক কিশোরের। সন্তান হারা হলেন বাবা মা। সোমবার সকালে ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ থানার বকশিপল্লি এলাকায়। পুলিশ জানিয়েছে, এই দুর্ঘটনায় ১১ বছরের এক বালকের মৃত্যু হয়েছে। নাম রাজু রায়। একের পর এক বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি জানিয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার।

আজ সকালে শৌচকর্ম করতে গিয়েছিল রাজু। শৌচাগারের ভিতরেই বোমা রাখা ছিল। শৌচালয়ের দরজা খুলতেই বিস্ফোরণ হয়। বিস্ফোরণের তীব্রতায় রাজুর দেহ শৌচালয় থেকে বেশকিছু দূরে ছিটকে পড়ে। ঘটনা স্থলে ছুটে আসে তাঁর বাবা সহ প্রতিবাশীরা। কিশোরকে দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। কিন্তু চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনাস্থল থেকে প্রচুর বোমা উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেছে বনগাঁ থানার পুলিশ।

এই রাজ্যে গত মে মাস থেকে পর পর বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এগরা, বজবজ, ইংরেজবাজারের মতো এলাকায় বাজি কারখানায় বিস্ফোরণে অনেকে নিহত হয়েছেন। আবার কখনও বেআইনি ভাবে মজুত করা বোমা ফেটেও দুর্ঘটনা ঘটেছে। সোমবার বনগাঁতেও তেমনই ঘটনা ঘটল। সোমবারের সকালের ঘটনায় মৃত বালকের বাবা জানিয়েছেন, সোমবার সকালে বাবার সঙ্গেই শৌচালয়ে শৌচের জন্য গিয়েছিল সে। কথা ছিল, সেখান থেকে নিজেদের কাজের জায়গায় যাওয়ার। কাছেই একটি সাইকেল গ্যারাজে কাজ শিখছিল রাজু। কিন্তু সেখানে আর তার যাওয়া হয়ে ওঠেনি। রাজুর বাবা জানিয়েছেন, শৌচালয় থেকে আগেই বেরিয়ে যান তিনি। ছেলেকে বলে যান একটি খাবার দোকানে খেয়ে কাজে যেতে। পরে ছেলের খাবারের টাকাও তিনি দিয়ে দেন দোকানটিতে। মাঝপথ থেকে ফিরে আসেন ছেলেকে সে কথা জানাতে। তখনই দেখেন রাজু শৌচালয়ের সামনের ফাঁকা জমির উপর রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছে, বকশিপল্লি এলাকা সমাজবিরোধীদের আখড়া হয়ে উঠেছে। ওই এলাকায় পুলিশের সামনে হেরোইনের ব্যবসা চালায় কিছু সমাজবিরোধী। প্রতিবাদ করতে গেলে উল্টে পুলিশের ভয় দেখায় তারা। তারা নাকি পুলিশকে টাকা দিয়ে এই ব্যবসা চালায়। প্রতিদিনই কারও না কারও বাড়ি থেকে চুরি যাচ্ছে। এলাকার কাউন্সিলার ও পুলিশ সব জানে। কিন্তু টাকার লালসায় কোনও পদক্ষেপ করে না। খবর পেয়ে ঘটনা স্থলে পৌছায় বিজেপির রাজ্য ও জেলার প্রতিনিধি দল।

বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রশ্ন করুণ তাঁর উন্নয়নকে শৌচালয়েও পৌছে দিলেন কি না? আজ একটা শিশুর জীবন চলে গেল। এরজন্য দায়ি কে? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য গোটা রাজ্য বোমা, বারুদের স্তূপের পরিণত হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী রূপে তিনি ব্যর্থ। এমনকি পুলিশ মন্ত্রীতেও ব্যর্থ। ওনার মতো অপদার্থ হোম মিনিস্টার বাংলায় আগে কোনও দিন হয়নি, ওনার পদ থেকে এখনই পদত্যাগ করা উচিৎ। দায়িত্ব সামলাতে না পাড়লে আপনার ভাইপোকে দিয়ে দিন না, আপনার বয়স হয়ে গিয়েছে। পুলিশ আপনার কথা শুনছে না।

তৃণমূলের বনগাঁ সাংগঠনিক জেলা সভাপতি বিশ্বজিৎ দাস বলেন, ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক। এই ধরণের ঘটনা আগে কখনও হয়নি। ইতিমধ্যে পুলিশ তল্লাশি চালিয়ে ঘটনাস্থল থেকে বেশ কিছু বোমা উদ্ধার করেছে। এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত দুজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ, বাকিদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *