স্বাভাবিক ছন্দে ফিরছে বগটুই, ইফতার পার্টি যেন মিলন উৎসব

আশিস মণ্ডল, রামপুরহাট, ৬ এপ্রিল: ইফতার পার্টি যেন মিলন উৎসবে পরিণত হল বগটুই গ্রামে। সপ্তাহ দু’য়েক আগে যে নারকীয় হত্যালীলা চলেছিল তার লেস মাত্র ছিল না এই পার্টিতে। সকলেই চান শান্তি। তাই ইফতারের আগে ঈশ্বরের কাছে সকলে গ্রামের শান্তি কামনা করলেন।

২১ মার্চ রাত প্রায় সাড়ে আটটা। একের পর এক বোমায় জখম হয়ে মৃত্যুর কোলে লুটিয়ে পড়েন বড়শাল গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান ভাদু শেখ। ১৪ নম্বর জাতীয় সড়কের ধরে রামপুরহাটের বগটুই মোড়ে জনবহুল এলাকায় এই খুনে আতঙ্ক ছড়ায়। ঘটনার ঘন্টা দুয়েক পর বদলা নিতে ভাদুর বাড়ি বগটুই গ্রামে তখন এলোপাথাড়ি বোমাবাজি ও বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। পরদিন সকালে ওই সমস্ত বাড়ির ভিতর থেকেই বের হয় এক শিশু সহ নয় জনের দগ্ধ মৃতদেহ। ঘটনা সামনে আসতেই গোটা দেশ শিউরে ওঠে। আতঙ্কে গ্রাম ছাড়েন বহু মানুষ। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সেই গ্রামকে স্বাভাবিক করতে বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করে। পিছিয়ে নেই তৃণমূলও। মুখ্যমন্ত্রী এবং জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলের নির্দেশে তৃণমূলের নতুন ব্লক সভাপতি সৈয়দ সিরাজ জিম্মিও গ্রামের মানুষের পাশে থেকে ভয়াবহ স্মৃতি মুছে ফেলতে উদ্যোগ নেন। তাই গ্রামবাসীদের আয়োজিত ইফতার পার্টিতে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন তিনি।

সৈয়দ সিরাজ জিম্মি বলেন, “প্রতি বছর গ্রামবাসীরা ইফতার পার্টির আয়োজন করে। এবার আমরা একটু বড় আকারে করার জন্য তাদের পাশে দাঁড়িয়েছি দলের নির্দেশে। আমরা চাই সেদিনের ভয়াবহ স্মৃতি ভুলে স্বাভাবিক ছন্দে ফিরুক বগটুই গ্রাম। সেই উদ্যোগে গ্রামের মানুষকে পাশে পেয়েছি আমরা”।

ইফতার পার্টিতে ছিলেন স্বজন হারা মিহিলাল শেখ। তিনি বলেন, “গ্রামের সমাজবিরোধীদের গ্রেফতার হয়েছে। বাকিরাও হবে। এখন গ্রাম ধীরে ধীরে স্বাভাবিক ছন্দে ফিরছে। এরই মধ্যে গ্রামবাসী এবং নতুন ব্লক সভাপতি সকলকে যেভাবে এক জায়গায় মিলিত করল সেটা প্রশংসার। এখন থেকেই সকলে শান্তির বার্তা দিলেন। সকলে গ্রামের শান্তি কামনা করলেন”।

রসুল শেখ বলেন, “প্রতি বছর আমরা ইফতার পার্টির আয়োজন করি। এবার গোটা গ্রামকে নিয়ে বড় আকারে করলাম। এই অনুষ্ঠান করার জন্য আমাদের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন তৃণমূলের ব্লক সভাপতি সৈয়দ সিরাজ জিম্মি। আমরা তার হাত ধরেই গ্রামকে স্বাভাবিক ছন্দে ফেরাতে চাই। সঙ্গে আছে প্রশাসন”।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *