আশিস মণ্ডল, আমাদের ভারত, বীরভূম, ৯ এপ্রিল: “বগটুইয়ের ঘটনা মানবতার কলঙ্ক। যেখানে শিশু থেকে মহিলাদের জীবন্ত পুড়িয়ে মারা হয়েছে। এটাই তৃণমূলের মহা জঙ্গল রাজ। তৃণমূল নেতাদের আশীর্বাদে এসব হচ্ছে।” সিউড়িতে এসে রামপুরহাটের বগটুই প্রসঙ্গ তুলে এভাবেই তৃণমূলকে আক্রমণ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বৃহস্পতিবার বিকেলে সিউড়ির চাঁদমারি মাঠে বিজেপির জনসভায় বক্তব্য রাখেন নরেন্দ্র মোদী। মঞ্চে উঠে জনতার উদ্দেশ্যে হাত নাড়েন। এরপরেই বীরভূমের ১১ জন প্রার্থীর সঙ্গে হাতে হাত ধরে ছবি তোলেন।
বক্তব্যের শুরুতেই বীরভূমের মাটির বীরদের কথা স্মরণ করেন। এরপর প্রয়াত রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়, সাহিত্যিক তারাশঙ্কর চট্টোপাধ্যায়, আটলার বামাখ্যাপাদের স্মরণ করেন। বাউলের জেলা বীরভূম থেকে পরিবর্তনের সূচনা করার ডাক দেন মোদী। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকে অসম্মান প্রসঙ্গে মোদী বলেন, “রাষ্ট্রপতিকে সম্মান জানানো সব রাষ্ট্রের কর্তব্য। কিন্তু অহংকারী তৃণমূল আদিবাসী সমাজের মুখ দ্রৌপদী মুর্মুকে অপমান করেছে। রামপুরহাটের তুমবুনি গ্রামে আদিবাদী ছাত্রীকে খুন করে টুকরো টুকরো করে জলে ফেলে দিয়েছে। তাই মেয়েদের সুরক্ষার জন্য বিজেপি সরকার প্রয়োজন। ভয় নয়, ভরসার সরকার চাই।”
তৃণমূলের দুর্নীতি প্রসঙ্গে মোদী বলেন, “এখানে বালি, পাথর, কয়লা লুঠ হচ্ছে। সব তৃণমূল নেতাদের আশীর্বাদে হচ্ছে। পরিকল্পনার অভাবে পাঁচামি কয়লা খনি বন্ধ। এখানে শিল্প নেই। সমস্ত কুটির শিল্প বন্ধ। এখানকার বড় শিল্প বোমা। বোমায় এখন এখানে কুটির শিল্পে পরিণত হয়েছে। এখানে দিন দিন স্কুল- কলেজ বন্ধ হচ্ছে।”
অনুপ্রবেশকারী প্রসঙ্গে মোদী বলেন, “এই সরকারের ভরসা অনুপ্রবেশকারী। আমরা ক্ষমতায় এলে অনুপ্রবেশকারী হঠাবো। এই অনুপ্রবেশকারীরা তৃণমূলের সঙ্গে থেকে প্রশাসনকে ভয় দেখিয়ে সরকারি সুযোগ সুবিধা ভোগ করছে। আর বাংলার মানুষকে ভিন রাজ্যে কাজ করতে যেতে হচ্ছে। এই প্রথার অবসান করতে বিজেপিকে চাই।” নরেন্দ্র মোদী বলেন, “রাজ্য সরকার কেন্দ্রের উন্নয়ন করতে দিচ্ছে না। দুবরাজপুর বাইপাসের কাজ বন্ধ রেখেছে। ৪ মে’র পর তৃণমূলের গুন্ডারাজ, সিন্ডিকেটরাজ খতম করব। এখানে চাই ডবল ইঞ্জিন সরকার। তাহলেই সিউড়ির বিকাশ হবে।”
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “পি এম (প্রধানমন্ত্রী) আমার পারিবারিক সম্পত্তি নয়। এটা মানুষের দেওয়া আশীর্বাদ। কিন্তু পি এম নাম শুনলে বাংলার সি এম (মুখ্যমন্ত্রী) তেলে বেগুনে জ্বলছে। ফলে পি এম নামের একাধিক প্রকল্প চালু করতে দিচ্ছে না সি এম। আমরা ক্ষমতায় এলে বেকারদের কর্মসংস্থান দেব। সপ্তম পে কমিশন ডি এ দেব। ১২৫ দিনের কাজ মিলবে। তার জন্য কাটমানি দিতে হবে না। সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকবে। তাই ভয় নয়, বিশ্বাস দিতে এসেছি। বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী নিয়ে আসুন। পি এম আর সি এম মিলে বাংলার উন্নয়ন করব।”

