সোমনাথ বরাট, আমাদের ভারত, বাঁকুড়া, ৭ অক্টোবর: ধড় থেকে মুন্ডু বিচ্ছিন্ন এক যুবকের মৃতদেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে কেশিয়াকোলে। ধড় থেকে কাটা মুন্ডুটি ওই যুবকের দেহ থেকে কিছুটা দূরে উদ্ধার হয়। আজ সকালে এই ঘটনার পর ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে বাঁকুড়া শহর সংলগ্ন কেশিয়াকোল গ্রামে।
পুলিশ সূত্রে জানাগেছে মৃতের নাম সুজন রুইদাস (২৪)। বাড়ি কেশিয়াকোল গ্রামেই। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মহাষ্টমীর দিন থেকে ‘নিখোঁজ’ ছিলেন অবিবাহিত ওই যুবক। নিখোঁজের বিষয়টি পরিবারের তরফে মৌখিক ভাবে পুলিশকেও জানানো হয়। আজ সকালে কেশিয়াকোল গ্রাম সংলগ্ন একটি ঝোপের পাশে ওই যুবকের দ্বিখণ্ডিত মৃতদেহ দেখতে পান স্থানীয় বাসিন্দারাই। কিছুটা দূরে পড়েছিল তার মুন্ডু।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌছায় বাঁকুড়া সদর থানার পুলিশ। স্থানীয় অধিবাসীদের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে কেশিয়াকোল দুষ্কৃতিদের আখড়াস্থলে পরিণত হয়েছে। ফলে খুন ও ছিনতাইয়ের ঘটনা বাড়ছে। প্রতি বছর এই এলাকায় কেউ না কেউ খুন হচ্ছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা অপরাধীদের খুঁজে বের করে চরম শাস্তি দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। এরকম খুন যারা করতে পারে তাদের উপযুক্ত শাস্তির দরকার বলে তাদের দাবি।
মৃত যুবকের মা কবিতা রুইদাস ছেলের শোকে পাথর হয়ে গেছেন। তিনি বলেন, অমিয় নামের কেউ একজন মহাষ্টমীর দিন তাকে বাড়ি থেকে ফোন করে ডেকে নিয়ে যায়। তারপর থেকেই ছেলের খোঁজ মেলেনি। ওই দিন রাত ৮ টার পর থেকে আর ফোনে যোগাযোগ করাও যায়নি। এই খুনের ঘটনায় ‘ছেলের বন্ধুরাই জড়িত’ বলে তিনি দাবি করেন।
এলাকার মানুষ মৃতদেহ আটকে রেখে বিক্ষোভ দেখান। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে হাজির হন ডিএসপি (ডি.এন্ড.টি)-র নেতৃত্বে বিশাল পুলিশ বাহিনী। এরপর পুলিশ মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছে। এদিন বিকেল পর্যন্ত লিখিতভাবে কোনো অভিযোগ দায়ের না হলেও ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে বাঁকুড়া সদর থানা।

