শান্তিপুরে কলাবাগান থেকে দুই বিজেপি কর্মীর মৃতদেহ উদ্ধার, প্রতিবাদে আগামীকাল ১২ ঘণ্টা বনধ

স্নেহাশীষ মুখার্জি, আমাদের ভারত, নদীয়া, ২৫ মার্চ:
দুই বিজেপি কর্মীর মৃতদেহ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়ালো শান্তিপুরে। আজ শান্তিপুরের মেথিডাঙ্গা এলাকায় তাদের রক্তাক্ত মৃতদেহ পাওয়া যায়। এই ঘটনায় বিজেপি অভিযোগের আঙ্গুল তুলেছে তৃণমূলের দিকে। অভিযোগ অস্বীকার করছে শান্তিপুরের শহর তৃণমূল। প্রতিবাদে বিজেপি আগামীকাল ২৪ ঘন্টা শান্তিপুর বনধ ডেকেছে।

জানা গেছে, নদীয়া শান্তিপুর থানার মেথিডাঙ্গা এলাকার একটা কলা বাগানের ভেতর বৃহস্পতিবার সকালে দুই যুবকের রক্তাক্ত দেহ দেখতে পান স্থানীয় মানুষজন। পরে শান্তিপুর থানায় খবর দিলে পুলিশ এসে মৃতদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। তবে নিহত দুই যুবকের নাম ও পরিচয় প্রথমে পুলিশ জানতে পারেনি।
পরে স্থানীয় সূত্রে খুনের ঘটনা চাউর হতেই নিহত যুবকদের পরিবার থানায় যোগাযোগ করে। খুন হওয়া এক যুবক দীপঙ্কর বিশ্বাসের নিশ্চিন্তপুর হাউস কলোনিতে বাড়ি অন্যজন প্রতাপ বর্মন যাঁর বাড়ি শান্তিপুর নৃরসিংহপুর বর্মন পাড়াতে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, কাল দুপুর বেলা থেকে এরা বাড়ি থেকে বেরিয়ে ছিল। তারপর থেকে ফোনে এদের যোগাযোগ করা যায়নি, বাড়িতেও আসেনি। আজ সকালবেলায় শোনা যায় কলাবাগানে দুজন খুন হয়ে পড়ে আছে। কিন্তু সেখানে গিয়ে লাশ দেখতে পাওয়া যায়নি। তারপর থানায় গিয়ে ও দেখি বডি নেই। থানার অফিসার মোবাইলে তোলা ছবি দেখান। তা দেখেই শনাক্ত করেন বাড়ির লোকজন।

পরিবার সূত্রের দাবি, পাড়ায় বিজেপির এক সদস্য থাকেন। তার সঙ্গেই এরা বিজেপির মিটিং মিছিল করত। বিজেপির সক্রিয় কর্মী ছিল এরা।

ঘটনা চাউর হতেই শান্তিপুরের বিজেপি প্রার্থী জগন্নাথ সরকার তাঁদের বাড়িতে যান। পরিবারকে নিয়ে অভিযোগ করতে আসেন জগন্নাথ সরকার। বিজেপির তরফ থেকে শান্তিপুর ডাকঘর মোড়ে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখানো হয়। বিজেপি কর্মীর খুনের প্রতিবাদে শুক্রবার শান্তিপুর শহর বিজেপির পক্ষ থেকে ১২ ঘণ্টা বন্ধের ডাক দেওয়া হয়েছে।

শান্তিপুরের বিজেপি প্রার্থী জগন্নাথ সরকারের অভিযোগ, পশ্চিমবাংলায় প্রতিদিন বিজেপি কর্মীদের খুন করে পরিচয় গোপন করার চেষ্টা চালাচ্ছে শাসকদল তৃণমূল। শাসক দলকে সম্পূর্ণ ভাবে এই কাজে মদত দিচ্ছে পুলিশ প্রশাসন। বিজেপি কর্মীদের পরিচয় গোপন করে বডি পরিবারকে সনাক্ত না করিয়েই ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে, যাতে পরবর্তী ক্ষেত্রে ওই বডি পরিবারের কেউ দাবি না করতে পারে।

শান্তিপুর সহ তৃণমূল সভাপতি অরবিন্দ মৈত্র বলেন, দুই যুবকের খুন হওয়ার ঘটনায় তৃণমূলের কোনও সম্পর্ক নেই। এই খুন কোনও রাজনৈতিক খুন নয়, কারণ এরা কেউ রাজনীতি করতো না। এরা খেটে খাওয়া শ্রমজীবী মানুষ। এখানে বিজেপির সংসদ তথা শান্তিপুরের প্রার্থী জগন্নাথ সরকার রাজনীতির ফায়দা তুলতে এই কাজ করছে এবং তৃণমূলকে বদনাম করছে। আমি হলফ করে বলতে পারি তৃণমূলের সঙ্গে এই খুনের কোনও সম্পর্ক নেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *