পিন্টু কুন্ডু, বালুরঘাট, ২২ মার্চ: রক্তপাতপুর্ন প্রসূতি মহিলাকেও ভর্তি নিল না সরকারী হাসপাতাল, করা হল রেফার। রাস্তাতেই মৃত্যু গর্ভের সন্তানের। চিকিৎসক ও সরকারী হাসপাতালের চরম অমানবিকতার শিকার হিলির খারুনের এক কৃষক পরিবার। চিকিৎসার গাফিলতির অভিযোগ তুলে বালুরঘাট জেলা হাসপাতালের প্রসুতি বিভাগের চিকিৎসক প্রশান্ত সরকারের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ জানিয়ে জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারের দ্বারস্থ হয়েছেন ওই অসহায় কৃষক দম্পতি। তদন্তের আশ্বাস জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারের।
দক্ষিন দিনাজপুর জেলার বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া হিলির খারুন গ্রামের বাসিন্দা পেশায় কৃষক সাধন সরকার তাঁর গর্ভবতী স্ত্রীকে পেটের যন্ত্রণা নিয়ে বালুরঘাট জেলা হাসপাতালে ভর্তি করান। চিকিৎসকের দেওয়া নির্ধারিত দিন হিসাবে ১২ ফেব্রুয়ারি ওই প্রসুতি মহিলার ভর্তির তারিখ থাকলেও, কিছুটা অস্বস্তি হওয়ায় ৮ ফেব্রুয়ারি প্রসূতি রিয়া প্রামানিককে ভর্তি করান তার পরিবার। হাসপাতালের কর্তব্যরত প্রসুতি বিভাগের এক চিকিৎসক তাদের বলেন “দেরি আছে” আর তারপরেই তাকে ছুটিও দিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। এরপর ১১ ফেব্রুয়ারি ওই প্রসূতি মহিলা রিয়া প্রামানিকের শরীরে রক্তক্ষরন শুরু হতেই প্রায় ২৫ কিমি দূরে বালুরঘাট হাসপাতালে তড়িঘড়ি ছুটে আসেন তার পরিবারের লোকেরা। সেই সময় হাসপাতালে কর্তব্যরত ছিলেন প্রসূতি বিভাগের চিকিৎসক প্রশান্ত সরকার। তিনি রোগীকে হাত দিয়ে না দেখেই সাথে সাথেই রেফার করে দেন ১১০ কিলোমিটার দূরে মালদা মেডিকেল কলেজে বলে অভিযোগ। শুধু তাই নয়, পরিবারের লোকজনকে ওই চিকিৎসক জানিয়েছেন, “তিনি সিজার করতে পারেন না,” এমনটাও অভিযোগ ওই প্রসূতির পরিবারের লোকজনের। এরপর তড়িঘড়ি রিয়া প্রামানিককে মালদা মেডিকেল কলেজে নিয়ে গেলেও শেষ রক্ষা হয়নি। ১২ ফেব্রুয়ারি সেখানকার চিকিৎসকরা ওই প্রসূতিকে সিজার করলেও সন্তানকে বাঁচাতে পারেননি। আর যারপরেই সরকারী হাসপাতালের বিরুদ্ধে কিছুটা ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন ওই কৃষক দম্পতি ও তার পরিবার।
ঘটনা জানিয়ে অভিযুক্ত চিকিৎসক প্রশান্ত সরকারের বিরুদ্ধে প্রথমে বালুরঘাট থানায় এবং তারপরে জেলাশাসক ও জেলা পুলিশ সুপারকেও লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন। অভিযোগ জানানো হয়েছে বালুরঘাট হাসপাতাল সুপারকেও। প্রসূতি মহিলা ও তার পরিবারের লোকদের অভিযোগ, বালুরঘাট সরকারী হাসপাতাল এখন যেন রেফারের হাসপাতালে পরিনত হয়েছে। এ জেলার প্রসুতি মহিলাদের এখন সন্তানের জন্ম দেবার জন্য ১১০ কিমি দূরে মালদায় যেতে হচ্ছে। হাসপাতালের চিকিৎসকরা শুধুমাত্র প্রাইভেট প্র্যাক্টিস নিয়েই মত্ত থাকছেন। সরকারি হাসপাতালে তারা কোনও পরিষেবাই দিতে চাইছেন না। আর তার জন্য প্রায় প্রতিদিনই গ্রাম গ্রামাঞ্চলের লোকদের সন্তানদের এভাবেই মৃত্যু হচ্ছে। চিকিৎসক প্রশান্ত সরকারের গাফিলতির কারনেই তাদের সন্তানের মৃত্যু হয়েছে।
প্রসুতি মহিলা রিয়া প্রামানিক বলেন, প্রশান্ত সরকার তাকে না দেখেই রেফার করে দিয়েছেন। রক্তক্ষরণ হবার পরেও তার সিজার করেনি ওই চিকিৎসক। আর যার কারনে এতদুর পথ যেতেই তার পেটের শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
স্বামী সাধন সরকার বলেন, প্রসুতি মায়েদের চিকিৎসার জন্যও যদি এখন মালদায় ছুটতে হয় তবে কিজন্য এই দশতলা হাসপাতাল। এতদুরে না নিয়ে যেতে হলে তার সন্তান বেঁচে যেত। ঘটনার মূল দোষী ওই চিকিৎসক প্রশান্ত সরকারের দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তি চান তারা।
যদিও ওই চিকিৎসক প্রশান্ত সরকারের বক্তব্য, কোনও কমেন্ট করবো না। হাসপাতাল সুপারের সাথে কথা বলবার পরেই এব্যাপারটি নিয়ে তিনি বলতে পারবেন।

