রাজেন রায়, কোচবিহার, ১০ এপ্রিল: চতুর্থ দফায় রক্তাক্ত হল ভোট। কেন্দ্র বাহিনীকে ঘিরে রাখার নির্দেশ দিয়েছিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অন্যদিকে পটাশপুরে কেন্দ্রীয় বাহিনীর এক জওয়ান আহত হওয়ার পর আত্মরক্ষার্থে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে গুলি চালানোর মৌখিক নির্দেশ দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। তারা ফলাফলেই চতুর্থ দফায় কোচবিহারের শীতলকুচিতে সিআইএসএফ গুলি চালায়। নিহত হল চার জন। আহত আরও চার। শীতলকুচির জোড়া পাটকির আমতলীর ১২৬ নম্বর বুথের বাইরে সকালে গুলি চলে। নিহতরা তাঁদের সমর্থক বলে তৃণমূলের দাবি। স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, মানুশ দলবেধে ভোট দিতে আসছিল, তাদের হামলাকারী ভেবে গুলি চালিয়েছে সিআইএসএফ। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে আত্মরক্ষার্থে গুলি চালিয়েছে বাহিনী। তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, আগামীকাল তিনি ঘটনাস্থলে যাবেন। আজ রাতেই তিনি শিলিগুড়ি যাচ্ছেন। কাল সকালেই শীতলকুচি যাবেন।

এই ঘটনা আগেই শীতলকুচির পাগলাপীরে শনিবার সকালে ভোটের লাইনে গুলি চলে৷ ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে ১৮ বছরের এক যুবকের। পরিবারের দাবি, তিনি বিজেপি সমর্থক। নিহতের নাম আনন্দ বর্মন (১৮)। বিজেপি এবং নিহতের পরিবারের দাবি তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতিরা গুলি চালিয়েছে। ঘটনার পর বেআইনি জমায়েত সরাতে লাঠিচার্জ করতে বাধ্য হয় পুলিশ। মৃত যুবক তাদের দলের সমর্থক বলে দাবি তৃণমূলের।

দুটি ঘটনার বিস্তারিত অ্যাকশন টেকেন রিপোর্ট চেয়ে পাঠিয়েছে নির্বাচন কমিশন। আত্মরক্ষার্থে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সিএপিএফ বাহিনীগুলি চালিয়েছে বলে জানিয়েছে কমিশন। শীতলকুচির জোড়া পাটকির ওই বুথে ভোটারদের ভোটদানে বাধা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ৷ ওই ২৬৫ নম্বর বুথে বিজেপির পোলিং এজেন্টকে বসতে বাধা দেওয়া হয় বলে জানা গিয়েছে৷ পাশাপাশি শীতলকুচির পাগলাপীরে এই গুলি চলার ঘটনা ঘটে৷
গত কয়েকদিন ধরেই একের পর এক রাজনৈতিক হিংসার ঘটনায় শিরোনামে ছিল কোচবিহারের শীতলকুচি। বুধবার বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের কনভয়ে হামলা হয়। যা নিয়ে চড়তে থাকে রাজনৈতিক পারদ। তৃণমূল-বিজেপি দফায় দফায় সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। ভোটের দিনে গুলি চলার ঘটনায় আরও উত্তপ্ত চেহারা নিল।

