পিন্টু কুন্ডু, বালুরঘাট, ৯ আগস্ট: রক্তাক্ত শিক্ষাঙ্গন। বহিরাগত তৃণমূল ছাত্র নেতাদের দাপাদাপিতে মাথা ফাটলো কলেজ পড়ুয়ার। তালাবন্ধ করে রক্তাক্ত ছাত্রকে হাসপাতালে নিয়ে যেতেও বাধা ছাত্র নেতাদের। বুধবার বিকেলে বালুরঘাট কোয়েড কলেজে ঘটে যাওয়া এমন অমানবিকতার ঘটনায় রীতিমতো আঁতকে উঠেছেন কলেজের ভিতরে আটকে পড়া কয়েকশো পড়ুয়া। ভেতরে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয় পুলিশকেও। যদিও পরবর্তীতে কলেজের অধ্যক্ষর হস্তক্ষেপেই স্বাভাবিক হয়েছে পরিস্থিতি। ঘটনা নিয়ে অবশ্য বহিরাগত ছাত্রদের দাপাদাপিকেই দায়ী করেছেন খোদ কলেজ অধ্যক্ষ পঙ্কজ কুন্ডু। যদিও এই ঘটনার সাথে তৃণমূল ছাত্র পরিষদ কোনভাবেই জড়িত নয় বলে পালটা সাফাই টিএমসিপির।
জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুর দেড়টা পর্যন্ত বাংলা বিভাগের বিএ ও এমএ ক্লাসের ইন্টারন্যাল অ্যাস্যাইনমেন্ট জমা দেওয়ার শেষ সময় হিসাবে ঘোষণা করেছিল বালুরঘাট কোয়েড কলেজ কর্তৃপক্ষ৷ বেশিরভাগ পড়ুয়ায় সেই ইন্টারনাল অ্যাসাইনমেন্ট জমা দিলেও বেশ কয়েকজন পড়ুয়া সেই অ্যাসাইনমেন্ট জমা দেয়নি। যাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন ছাত্র নেতাদের ঘনিষ্ঠও ছিলেন বলে অভিযোগ। এদিন কলেজের তরফ থেকে জানানো হয়, যারা সুনির্দিষ্ট সময়ে অ্যাসাইনমেন্ট জমা দিতে পারেনি তাদের লিখিত চিঠি দিতে হবে। যে কারণ দর্শানোর চিঠি দিতেই অনেকে আপত্তি জানায়। যে ঘটনাকে ঘিরেই উত্তেজিত হয়ে ওঠে ছাত্র নেতাদের বেশকিছু ঘনিষ্ঠরা। অভিযোগ, এরপরেই বেশকিছু বহিরাগত ছাত্র নেতারা কলেজের সমস্ত গেটে তালা মেরে কলেজের অধ্যক্ষকে ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন৷ ঘটনার জেরে তড়িৎ মন্ডল নামে এক কলেজ পড়ুয়াকে বেধড়ক মারধরও করা হয়। মাথা ফেটে রক্তাক্ত হয় কলেজ চত্বর। তড়িঘড়ি ওই কলেজ ছাত্রকে হাসপাতালে নিয়ে যাবার চেষ্টা করলেও তা আটকে দেন কয়েকজন ছাত্র নেতা। ঘটনার জেরে তালা বন্ধ গেটের বাইরে আটকে পড়েন পুলিশ কর্মীরাও। অবশেষে অবস্থা বেগতিক বুঝে কলেজ কর্তৃপক্ষকে মূল গেটের তালা ভেঙ্গে অ্যাম্বুলেন্স ঢোকাতে হয়। এরপরেই রক্তাক্ত ওই ছাত্রকে ভর্তি করা হয় বালুরঘাট জেলা হাসপাতালে।

ঋতু রানি ঘোষ নামে এক কলেজ পড়ুয়া বলেন, প্রায় ৩০ মিনিট ধরে কলেজ গেটের বাইরে দাঁড়িয়ে আছেন। ভেতর থেকে সমস্ত গেটে তালা ঝোলানো রয়েছে। যার কারণে ভেতর থেকে কেউ বাইরে আসতে পারছে না এবং বাইরে থেকে কেউ ভেতরে ঢুকতে পারছে না। কি কারণে এমন ঝামেলা তারা বুঝতে পারছেন না।
রক্তাক্ত কলেজ পড়ুয়া তড়িৎ মন্ডল বলেন, কিছু বহিরাগত ছেলে মেয়ে অধ্যাপক ও কলেজ ছাত্রীদের অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করছিল। একজন ছাত্র হিসেবে যার প্রতিবাদ করেছিলেন তিনি। আর তাতেই তাকে বেধড়ক মারধর দিয়ে তার মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয়েছে।
বালুরঘাট কলেজের অধ্যক্ষ ডঃ পঙ্কজ কুন্ডু বলেন, কলেজের ভিতরে বহিরাগত ছাত্র-ছাত্রীদের দাপাদাপিতেই এই ঘটনা। একজন ছাত্রকে মেরে মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয়েছে। গোটা কলেজ তালা বন্ধ করে রাখা হয়েছিল বেশ কিছুক্ষণ। তবে পরবর্তীতে তিনি দাঁড়িয়ে থেকে সেই তালা ভেঙ্গে দিয়ে কলেজে অ্যাম্বুলেন্স ঢুকিয়ে ওই ছাত্রকে হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছেন।
তৃণমূল ছাত্র পরিষদের জেলা সভাপতি অমরনাথ ঘোষ জানিয়েছেন, এই ঘটনার সাথে তৃণমূল ছাত্র পরিষদ কোনভাবেই জড়িত নয়। কলেজের ভেতরে যে মারপিটের ঘটনা ঘটেছে তার একটি তদন্ত করা হচ্ছে। সেখানে তাদের কেউ জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

