শক্তিনগর জেলা হাসপাতালে দালালদের মাধ্যমে মোটা টাকায় বিক্রি হচ্ছে রক্ত, পৌঁছে যাচ্ছে বিভিন্ন নার্সিংহোম ও বেসরকারি হাসপাতালে

স্নেহাশীষ মুখার্জি, আমাদের ভারত, নদিয়া, ১৩ ডিসেম্বর:
জেলার অন্যতম বড় ব্লাডব্যাঙ্ক হল শক্তিনগর জেলা হাসপাতালের ব্লাড সেন্টার। এই গুরুত্বপূর্ণ ব্লাড সেন্টারেই দালাল চক্রের উপদ্রপ। এখান থেকেই দালালদের মারফত রক্ত পৌঁছে যাচ্ছে বিভিন্ন বেসরকারি নার্সিংহোম ও হাসপাতালগুলিতে। এই ঘটনা জানাজানি হতেই নড়ে চড়ে বসেছে স্বাস্থ্য ভবনের কর্মকর্তারা।

জানা গেছে, জেলা স্বাস্থ্যদপ্তরের অধিকারিককে ৭ দিনের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট জমা দিতে বলেছে স্বাস্থ্যভবন। এই বিষয়ের উপর জেলার স্বাস্থ্য আধিকারিকদের নিয়ে উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। সেই কমিটি গত রবিবার থেকেই তদন্ত শুরু করে দিয়েছে।

এর আগেও একাধিকবার অভিযোগ উঠেছিল। একাধিকবার জেলার স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা তদন্ত করেছিল, কিন্তু তার কোনও প্রকার ফলাফল আসেনি। তাদের কথায়, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে কোনও প্রকার প্রমান পাওয়া যায়নি।

জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে জানাগছে, শক্তিনগর ব্লাড ব্যঙ্ক হল জেলার সবথেকে বড় ব্লাড সেন্টার। এখানে প্রায় দেড়হাজার প্যাকেট রক্ত সংগ্রহ করে রাখার ব্যবস্থা আছে। প্রতিদিন এই সেটার থেকে প্রায় ৭০-৭৫ প্যাকেট রক্ত দেওয়া হয়। কিন্তু সাধারণ মানুষের অভিযোগ, “এই ব্লাড ব্যংকে গেলে রক্ত পাওয়ায় যায় না। তাদের প্রায় শুনতে হয় রক্ত নেই”। রুগীর পরিজনরা কার্ড নিয়ে গেলেও রক্ত পায় না বলে প্রায় অভিযোগ ওঠে। তাদের কাছে কার্ড থাকা সত্তেও তাদের বলা হয় রক্ত দাতা নিয়ে আসতে। কেউ কেউ আবার দাতা নিয়ে আসলেও রক্ত পায় না, এমনটাই অভিযোগ সর্বত্র।

একাধিক ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, “ব্লাড ব্যংকে গেলে রক্ত পাওয়ায়া যায় না। কিন্তু দালালদের কাছ থেকে প্যাকেট প্রতি ৩০০০টাকা দিলেই রক্ত পাওয়া যাচ্ছে। ব্লাড সেটারের এক শ্রেণির কর্মীদের কাছ থেকে দালালরা সেই রক্ত কিনে নিয়ে যাচ্ছে ২৫০০টাকা দিয়ে। এই সকল দালাল আসলে কোনও না কোনও বেসরকারি হাসপাতাল ও নার্সিং হোমের কর্মী।

জেলা হাসপাতাল সূত্রে জানাগেছে, নার্সিংহোম ও বেসরকারি হাসপাতালগুলি তাদের প্রয়োজনে নির্দিষ্ট অর্থের বিনিময়ে সকাল ১০টা থেকে বেলা ২টোর মধ্যে ঐ কেন্দ্র থেকে রক্ত কিনতে পারে। কিন্তু সেই নিয়ম এখন শিকেয় উঠেছে।

জেলার কর্তাদের অনেকেরই দাবি, “হাসপাতালের সুপার সোমনাথ ভট্টাচার্য ও ঐ রক্ত সেন্টারের দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক এই ঘটনার দায় অস্বীকার করতে পারেন না।
এই প্রসঙ্গে হাসপাতাল সুপার বলেন, “ বিষয়টি উচ্চপর্যায়ে তদন্ত চলেছে। এখনি কিছু বলা ঠিক হবে না। তদন্ত শেষ হলে জানতে পারবেন”।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *