আশিস মণ্ডল, বীরভূম, ১২ আগস্ট: শতবর্ষ প্রাচীন পরম্পরায় ছেদ। নেপথ্যে মানবিকতা। অকারণে রক্ত ঝরানো নয়, বরং সেই রক্তে বাঁচুক মানুষের প্রাণ। এই ভাবনা থেকেই মহরম প্রচলিত রীতিনীতি, আচারকে দূরে সরিয়ে সেই জায়গায় স্বেচ্ছায় রক্তদান শিবির। নিশ্চিতভাবেই দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন বোলপুর শহরের দর্জিপাড়া মহরম কমিটি। সংস্থার ১৯০১ সাল থেকে চলা প্রথা আর পরম্পরায় ছেদ পড়েছে স্রেফ মানুষের স্বার্থে।
সেই ১৯০১ সাল থেকে বোলপুরের দর্জিপট্টিতে স্থানীয় মসজিদ এবং মহরম কমিটি মহরম উপলক্ষ্যে তাজিয়া সহ পালনীয় অন্যান্য রীতিনীতি মেনে চলে। কারবালা প্রান্তরে হাসান-হোসেনের আত্মবলিদানের ঘটনাকে স্মরণে রেখে বিভিন্ন রকমের আচার অনুষ্ঠানের আয়োজন করার রীতিতে ছেদ পড়েনি কখনও। তার মধ্যে অন্যতম ব্লেড মাতম, খঞ্জর মাতম। যা দিয়ে মহরমের দিন নিজেদের শরীরকে ক্ষতবিক্ষত করে রক্ত ঝরান বহুজনই। কিন্তু এবার ঠিক উল্টো পথেই হেঁটেছেন তারা। অকারণে রক্তক্ষয় নয় বরং সেই রক্ত মানুষের কাজে লাগবে– এই বার্তা তুলে ধরেছেন। তাই মহরমের অনুষ্ঠান থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে মাতমকে। সেই জায়গায় স্থান পেয়েছে রক্তদান। বৃহস্পতিবার সেই শিবিরে উদ্দীপনার সাথে রক্ত দিয়েছেন ৫০ জন। শিবিরে সামিল হয়েছিলেন আরও বহু মানুষ।
শিবিরের অন্যতম উদ্যোক্তা খোকন শেখ বলেছেন, “মহরমের মাতম করে রক্ত ঝরানোর চেয়ে আজকের এই সঙ্কটজনক মুহূর্তে মানুষের পাশে দাঁড়ানো অনেক বেশি প্রয়োজন। সেই কথা ভেবেই শতাব্দী প্রাচীন যে পরম্পরা রয়েছে তা বাদ দিয়ে মুমুর্ষূ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর প্রচেষ্টা হিসাবে রক্তাদন শিবিরের আয়োজন করা হয়েছে।’’

