বউভাত উপলক্ষ্যে রক্তদান শিবির গোপীবল্লভপুরে

অমরজিৎ দে, ঝাড়গ্রাম, ১৪ আগস্ট: পেশায় স্বাস্থ্য কর্মী গোপীবল্লভপুরের টিকায়েৎপুরের বাসিন্দা অকেশ শর্মা নিজের কর্মজীবনে এই দেড় বছরে উপলব্ধি করেছেন করোনা পরিস্থিতিতে রক্তের প্রয়োজনীয়তা। স্বাস্থ্য দফতরে কাজের সুত্রে বার বার দেখেছেন এক ইউনিট রক্তের জন্য কিভাবে রোগীর আত্মীয় স্বজনদের ছুটতে হয় এক ব্লাড ব্যাঙ্ক থেকে আর একটি ব্লাড ব্যাঙ্কে। তাই নিজের বিয়ের বৌভাতের দিন আয়োজন করে ফেললেন রক্তদান শিবির। স্বাস্থ্য কর্মী অকেশ শর্মার বিয়েবাড়ির এই রক্তদান শিবিরে যেমন রক্তদান করলেন তার আত্মীয় স্বজনরা তেমনি স্বেচ্ছায় রক্তদানে এগিয়ে এলেন পার্শ্ববর্তী এলাকার উৎসাহী যুবকরা। গোপীবল্লভপুরের টিকায়েৎপুরে অকেশ বাবুর বিয়েবাড়িতে আয়োজন করা রক্তদান শিবিরে এদিন মোট ৩০ জন রক্তদাতা স্বেচ্ছায় রক্তদান করেন বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সুত্র থেকে জানা গেছে, গোপীবল্লভপুরের টিকায়তপুরের বাসিন্দা অকেশ শর্মা কয়েকবছর আগে থেকে নয়াগ্ৰাম ব্লকে স্বাস্থ্য দফতরে কাজ করেন। কিন্তু এই করোনা মহামারির সময় দিনের পর দিন অকেশ বাবু লক্ষ্য করেছেন ব্লাড ব্যাঙ্কে রক্তের জন্য কিভাবে মানুষকে ছুটতে হচ্ছে। দিনের পর দিন মানুষ গৃহবন্দি থাকায় পর্যাপ্ত পরিমাণে রক্তদান শিবির না হওয়ায় ব্লাড ব্যাঙ্ক গুলিতে রক্তের অভাব খুব কাছ থেকে লক্ষ্য করেছেন অকেশবাবু। তার মধ্যেই গোপীবল্লভপুরের কমলাশোলের বাসিন্দা বর্ণালী জানার সঙ্গে অকেশ বাবুর বিয়ের সব কিছু ঠিকঠাক হয়ে যায় তখন বিয়েবাড়িতে রক্তদান শিবির করা যায় কি না তা নিয়ে ভাবনাচিন্তা করতে শুরু করেন। তখন পাশে পেয়ে যান সুবর্ণরৈখিক ভাষা পরিবার ‘আমারকার ভাষা আমারকার গর্ব’ এর সদস্য বিশ্বজিৎ পাল, সুদীপ কুমার খাঁড়া, সৌকত আলী শা -এর মতো সমাজসেবীদের। সুবর্ণরৈখিক ভাষা পরিবারের সক্রিয় সদস্যরা এবং সত্যকাম পট্টনায়েক সহযোগিতার আশ্বাস দিলে বিয়েবাড়ির বৌভাতের দিন আয়োজন করেন রক্তদান শিবির। সেই মতো করে গোপীবল্লভপুর সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের ব্লাড ব্যাঙ্কের সহায়তায় শনিবার অকেশ শর্মার বাড়িতে রক্তদান শিবির হয়। যা এলাকায় একপ্রকার ভিন্নধর্মী সমাজসেবামূলক কাজ বলা যেতেই পারে।

এবিষয়ে অকেশ শর্মা বলেন, স্বাস্থ্য দফতরে কাজের সময় বারে বারে রক্তের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করেছি। তাই বিয়ের বৌভাতে রক্তদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। অন্যদিকে রক্তদান শিবিরের পরিচালক আমারকার ভাষা আমারকার গর্ব’পরিবারের সদস্য তথা রক্তদাতা সৌকত আলী শা বলেন, এধরনের কর্মসূচি এই এলাকায় একেবারে নতুন, কিন্তু বারে বারে এধরনের কর্মসূচির আয়োজন করা উচিত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *