আমাদের ভারত, ব্যারাকপুর, ১৮ জুন: এবার কেন্দ্রীয় সরকারের অগ্নিপথ প্রকল্প নীতিকে কেন্দ্র করে ব্যারাকপুর রেল স্টেশন অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখালো চাকরি প্রার্থীরা। অবরোধ করায় বেশ কিছুক্ষণ আটকে থাকে ট্রেন তারপরেই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় রেল পুলিশ ও টিটাগড় থানার পুলিশ।
কেন্দ্র সরকার আর্মিতে চাকরি সংক্রান্ত নতুন নিয়ম অগ্নিপথ নীতির বিরোধিতায় সারা দেশ অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছে। মাত্র ৪ বছরের জন্য সেনাবাহিনীতে নিয়োগের যে নিয়ম নির্ধারণ করা হয়েছে তার প্রতিবাদে আজ ব্যারাকপুর ১৪ নং রেল গেটে রেল অবরোধ শুরু করে চাকরি প্রার্থীরা। আজ সকাল ১০ টা থেকে শিয়ালদা শাখার ব্যারাকপুরে রেল লাইনের ওপর বসে দেশের জাতীয় পতাকা নিয়ে বিক্ষোভ দেখায় ও রেল অবরোধ করে চাকরি প্রার্থীরা।

এদিন সেনাবাহিনীতে চাকরি করবার স্বপ্ন নিয়ে বড় হয়ে ওঠা যুবকরা রেল লাইনে বসে পড়েন। এমন কি রেল লাইনের ওপর তারা কসরত করতে থাকে। এর জেরে বন্ধ হয়ে যায় রেল চলাচল। যার ফলে সমস্যায় পড়তে হয় নিত্যযাত্রীদের। এদিন নিত্য যাত্রীদের সাথে বিক্ষোভকারীদের অবরোধ নিয়ে বচসা বেধে যায়। এরপর ঘটনাস্থলে আসে রেল পুলিশ ও টিটাগড় থানার পুলিশ বাহিনী। তারা এসে বিক্ষোভকারীদের সাথে কথা বলে অবরোধ তুলে দিতে চায়, কিন্তু চাকরি প্রার্থীরা সেই অনুরোধ মানতে না চাইলে অবশেষ পুলিশ লাঠি উঁচিয়ে তাড়া করে বিক্ষোভকারীদের হটিয়ে দে। ঘণ্টা খানেক পর ব্যারাকপুরে রেল অবরোধ উঠে যায়। এরপর ধীরে ধীরে শিয়ালদহ মেন শাখায় ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়ে যায়।
এদিন বিক্ষোভকারীরা বলেন, “আমরা কাউকে সমস্যায় ফেলতে চাইছি না। কেন্দ্র সরকারী অগ্নিপথ প্রকল্পটি প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি। কারণ মাত্র ৪ বছর আমরা চাকরি করবো তারপর ফিরে এসে আমাদের কি হবে? আমাদের স্বপ্ন সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়া। দেশের জন্য কাজ করা। কিন্তু আমরা আগের নিয়মে সেনাবাহিনীতে নিয়োগ চাইছি। আমরা ১৫ বছর সেনা বাহিনীতে চাকরি করতে চাই “।
অপর দিকে এদিন ব্যারাকপুরের সাংসদ অর্জুন সিং এই অগ্নিপথ প্রকল্প সম্বন্ধ্যে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
অগ্নিপথ একদম ভুল সিদ্ধান্ত। এটা এখনই প্রত্যাহার করা উচিত। আমার দল যদি চায় আমি অবশ্যই সংসদে এটা নিয়ে লড়াই করবো।” শনিবার দুপুরে সাংসদ অর্জুন সিং তার জগদ্দলের বাসভবনে বসে সাংবাদিকদের বলেন,”কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্ত একটা বড় ভুল। যারা দেশের জন্য প্রাণ দেবে বলে সেনা বাহিনীতে যায় তাদের অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ দেওয়া সম্পূর্ণ ভুল। যুব সমাজ বুঝে গেছে যে মোদী সরকার তাদের সমস্যার দিক থেকে চোখ ফিরিয়ে দিতে এই নীতি আনছে।”

