বিজেপির বনগাঁ সাংগঠনিক জেলা সভাপতি পদে রদবদল, এলেন রামপদ দাস, বাদ পড়লেন মনস্পতি

সুশান্ত ঘোষ, আমাদের ভারত, উত্তর ২৪ পরগণা, ২৫ ডিসেম্বর: জল্পনা সত্যি করেই বিজেপির সাংগঠনিক বনগাঁ জেলা সভাপতি পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হল ঠাকুরনগরের মনস্পতি দেব’কে। তাঁর পরিবর্তে বর্ষীয়ান নেতা রামপদ দাস’কে বনগাঁ সাংগঠনিক জেলা সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। গোপালগর থানার ন’হাটার বাসিন্দা শনিবার সকালে ঘোষণার পরেই নতুন সভাপতি রামপদ দাসের বাড়িতে উৎসাহী কর্মী- সমর্থকদের ভিড়। যদিও তিনি তাঁর পরিবারে কেউ একজন অসুস্থতার কারণে মুম্বইতে আছেন, তাই তাঁর বাড়ির সামনে কর্মীদের ভিড় লক্ষ্য করা যায়।

মনস্পতি দেবকে সরানো নিয়ে বিজেপি কর্মী সমর্থকদের মধ্যে উৎসবের জোয়ার দেখা গেল বনগাঁ মহকুমায়। অন্য দিকে বিরূপ মন্তব্য শোনা গিয়েছে নতুন সভাপতির বিরুদ্ধে। বনগাঁ আলাদা জেলা করার পর থেকেই মনস্পতি দেব ছিলেন বনগাঁ জেলা সভাপতি। তারপর থেকেই একের পর এক অভিযোগ উঠে আসে মনস্পতি দেবের বিরুদ্ধে। তাই নতুন সভাপতির নাম ঘোষণার পরই বিজেপি কর্মীদের মধ্যে উৎসাহ দেখা যায়। আর সেই উৎসাহের সঙ্গে নতুন সভাপতিকে ফোন করে স্বাগত জানায়। অন্যদিকে দলের একাংশ বলেছেন, যোগ্য কর্মীকে সন্মান দিল না দল।

বিজেপি বিধায়ক স্বপন মজুমদার বলেন, বিজেপির সংবিধান মেনেই রাজ্যের সভাপতি বদলের পর জেলাতেও নয়া সভাপতি করেছে দল। রামপদবাবু বিগত দিনে, বারাসত জেলার সাধারণ সম্পদাক ছিলেন, পরে জেলার সহ সভাপতি, বনগাঁ আলাদা জেলা হওয়ার পর সহ-সভাপতি ছিলেন, ২০১৪ সালে লোকসভার কো-কনভেনারের দায়িত্ব পালন করেছেন, ২০১৫ সালে বনগাঁর কো-কনভেনার ছিলেন, ২০১৬ সালে বনগাঁ দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের নির্বাচনী এজেন্ট ছিলেন। ২০১৯ সালেও তিনি নির্বাচনী এজেন্ট ছিলেন। স্বপনবাবু বলেন, আমি মনে করি দল যোগ্য মানুষকেই দায়িত্ব দিয়েছে। যারা আজ মনে করছে দল তাঁদেরকে সন্মান দিচ্ছে না, এটা তাঁদের ভুল ধারণা। তারাও এক দিন এই জায়গা পাবে।

বিজেপির নতুন জেলা সভাপতি রামপদ দাস বলেন, দীর্ঘ দিন ধরে এই দল করে আসছি। জেলা সহ রাজ্যে অনেক দায়িত্বের সঙ্গে কাজ করে এসেছি। আমার প্রথম কাজ হবে নতুন করে দলের মজবুত সংগঠন তৈরি করে, কাজ করা। আগামী দিনে ভোটে দলকে জয়ী করাই আমার লক্ষ্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *